
ডেস্ক রিপোর্ট:
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে এর জবাবে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতায় রাখা হয়েছে বলে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে দখলকৃত ভূখণ্ড এবং মার্কিন সামরিক ও নৌ চলাচল কেন্দ্রগুলো বৈধভাবেই আমাদের লক্ষ্য হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি কর্তৃপক্ষের উল্লেখ করা ‘দখলকৃত ভূখণ্ড’ মূলত ইসরায়েলকেই নির্দেশ করে। ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং দেশটিকে বরাবরই ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে।
এই হুমকির প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসে এক বন্দুক হামলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক সেনা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দেশটির পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ফাঁস–সংক্রান্ত এক তদন্তে ইরানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের চিফ অব স্টাফকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গালিবাফের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন নতুন করে জোরালো হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।