প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১:৪৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১৭, ২০২৫, ৮:১৪ পি.এম

এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগের বাবার কৃষি জমির ফসল নষ্ট করেছে দূর্বৃত্তরা।
গাইবান্ধা (সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ) প্রতিনিধি।
গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ইসলামপুর (তালেরদীঘি) গ্রামে রাতের আধাঁরে দুর্বৃত্তরা ২৫ শতাংশ জমিতে লাগানো বেগুনের ফসল নষ্ট করেছে দূর্বৃত্তরা । এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকা।
[caption id="attachment_247" align="aligncenter" width="666"]
এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগের বাবার কৃষি জমির ফসল নষ্ট করেছে দূর্বৃত্তরা।[/caption]
কৃষকের ছেলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাতে কে বা কারা ইসলামপুর গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব আব্দুর রহমান (ভোলা হাজী) এর বেগুন ক্ষেত নষ্ট করে দেয়। তিনি প্রয়াত আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) নাজমুল হাসান সোহাগের বাবা।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুর রহমান ভোলা হাজী বলেন,
"আমার কারো সাথে পারিবারিক বা গ্রামের কোনো বিবাদ নেই। আমি সারা জীবন কৃষিকাজ করে আসছি। এ বছর ২৫ শতাংশ জমিতে ৪ হাজার ৩ শত উন্নত যাতের চারা ৫০ দিন পূর্বে রোপন করি। কোন কোন গাছে ফুল কুড়ি এসেছিল কিন্তু হঠাৎ করে কে বা কারা গত রাতে আমার বেগুনের ফসল নষ্ট করে দিল বুঝতে পারছি না। এ ক্ষতি আমার পক্ষে কাটিয়ে ওঠা কষ্টকর। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) নাজমুল হাসান সোহাগ অভিযোগ করে বলেন,
"আমার পরিবারের কারো সাথেই কোনো শত্রুতা নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে আমাকে দমিয়ে রাখার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমি মনে করছি। যেদিন থেকে আমি গাইবান্ধা-৩ আসনে সংসদ পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছি, সেদিন থেকেই আমার উপর নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারপরও আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।"
সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজ উদ্দিন খন্দকার বলেন,
"ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন,
"কৃষকের ফসল নষ্ট করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষক আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার চাইলে কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করবে।"
ধাপেরহাট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন,
"আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কৃষকের ফসলের সাথে এমন শত্রুতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, পুরো কৃষি খাতের জন্যও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। কৃষকের ক্ষতি মেনে নেওয়ার মতো নয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"
এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, রাজনৈতিক হোক বা ব্যক্তিগত, কৃষকের ফসলের উপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।