গাইবান্ধা প্রতিনিধি,
গাইবান্ধা জেলা জুড়ে সাংবাদিকদের হামলা ও মারধরের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মারধর কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের একটি অপপ্রয়াস। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রকৃত অর্থে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কোন বিচার হয় না; যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকের সুরক্ষা নিশ্চিতে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
গত ২৯ আগষ্ট (শুক্রবার) বিকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় বাঙ্গালি নদী থেকে উত্তোলনকৃত বালু বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে একপক্ষের রোষানলে পড়ে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি খাইরুল বাশার। এসময় জোরপূর্বক তার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করা হয়।
এদিকে, গত ৩০ আগষ্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের চরকতলা এলাকায় জমি নিয়ে দুইপক্ষের দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চ্যানেল এসের প্রতিনিধি মাহমুদ হাসান নাইম ও ক্যামেরাম্যান নিয়াজ মোর্শেদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ গিয়ে ছিনতাইকৃত জিনিসপত্র উদ্ধার করে আনে।
অন্যদিকে, গতকাল রবিবার (৩১ আগষ্ট) দুপুরে সাদুল্লাপুর শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিউজ২১ বাংলা টিভির প্রতিনিধি শাকিল মিয়ার বুম কেড়ে নিয়ে তাকে আক্রমণ করলে তিনি পায়ে গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন আইনী ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি।
গোবিন্দগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি খোকন আহম্মেদ বলেন, একজন সাংবাদিকের উপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর সুষ্পষ্ট আঘাত। হামলার পরেও তারা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।