
বাংলাদেশের শিল্প খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এখনও কাঙ্খিত সাফল্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। শিল্প সম্পদের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, ভালো যাতায়াত ব্যবস্থা, শ্রমের সহজলভ্যতা এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের মধ্যে পাট শিল্প অন্যতম। মোট শ্রমিকের প্রায় ৪৮% পাট শিল্পে নিয়োজিত। উৎপাদিত সামগ্রীর ৮৫% বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ভারত বিভাগের সময় এই অঞ্চলে কোনো টাটকল ছিল না; ১৯৫১ সালে দেশের প্রথম পাটকল স্থাপিত হয়।
বর্তমান অর্থনীতিতে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্প। ১৯৪৭ সালে দেশেই কাপড় কল ছিল মাত্র ৯টি, বর্তমানে তা ৬৯টি। তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। ১৯৮৩ সালে ৪৬টি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপিত হয়েছিল, এখন এটি প্রায় ২০০০টি, শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।
১৯৪৭ সালে দেশে কোনো কাগজ কল ছিল না। ১৯৫৩ সালে চন্দ্রঘোনায় প্রথম কাগজ কল স্থাপিত হয়, ১৯৫৯ সালে খুলনায় নিউজপ্রিন্ট মিল। কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় বাঁশ, কাঠ, আখের ছোবড়া, ধানের খড় ইত্যাদি।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। শস্যোৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সার ব্যবহার অপরিহার্য। স্বাধীনতার পূর্বে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে প্রথম সারকারখানা স্থাপিত হয়। বর্তমানে দেশের ৮টি সার কারখানা চালু আছে, যা প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
১৯৪৭ সালে দেশে ৫টি চিনিকল ছিল, বর্তমানে সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৭টি। চিনি শিল্প মূলত আখের ওপর নির্ভরশীল।
চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী শিল্প। বর্তমানে দেশের ৮টি জেলায় চা শিল্প গড়ে উঠেছে। সর্বমোট ১৬৩টি চা বাগান আছে। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙি উপজেলায় চা চাষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের শিল্প সম্পদে যথাযথ দিকনির্দেশনা, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও সরকারী সহযোগিতা থাকলে শিল্পের মান আরও উন্নত করা সম্ভব। পাট, বস্ত্র, তৈরি পোশাক, কাগজ, সার, চিনি ও চা শিল্প দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, এবং এগুলোই দেশের শিল্পিক ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে দিচ্ছে।