
স্টাফ রিপোর্টার | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর ছয় বছরের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু সেই সম্পর্কের পরিণতি দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ অভিযোগে। ঘুমন্ত অবস্থায় এক সেনা সদস্যের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সেনা সদস্য ইমান মোল্লা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে আপন খালাতো বোন রোকসানা বেগমকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ইমান মোল্লা। বিয়ের পর স্ত্রী বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। দাম্পত্য জীবনের শুরুটা স্বাভাবিক থাকলেও গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ১০ দিনের ছুটিতে বাড়ি আসেন ইমান। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সন্তানের অসুস্থতার কথা বলে তাকে বাবার বাড়িতে ডেকে নেন স্ত্রী। সেখানে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে হঠাৎ গুরুতর আঘাতে জেগে ওঠেন ইমান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রথমে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে একই রাতে স্থানান্তর করা হয় যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরের সংবেদনশীল স্থানে গুরুতর আঘাতের কারণে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইমান মোল্লা বলেন, “আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পারিবারিক কলহ থাকলেও এমন নৃশংস হামলা অকল্পনীয়। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ, পারস্পরিক অবিশ্বাস, মানসিক চাপ ও পারিবারিক জটিলতা থেকে হঠাৎ সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই এমন সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।