
নরসিংদী প্রতিনিধি | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
নরসিংদীর মাধবদীতে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যৌথ অভিযানে র্যাব-১১ ও জেলা পুলিশ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতালিচর হোসেন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
মো. এবাদুল্লাহ (৪০)
মো. আইয়ুব (৩০)
সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫)
তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)
অপর একজন, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে কৌশলে তরুণীকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে পরিবার বিষয়টি জানাতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাধা দেয় এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে নিহতের পরিবারের দাবি।
বুধবার রাতে তরুণী তার বাবার সঙ্গে খালার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ একটি সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মহিষাসুরা ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত চার্জশিট দাখিল করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে।