
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়—২০০-এর বেশি আসন পেতে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে হয়েছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, “জনগণকে কনভিন্স করাটাই ছিল আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা—সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।”
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই ছিল তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ভালো কিছু অর্জন করতে গেলে কষ্ট করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অভিনন্দন জানাই। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাষ্ট্র কাঠামো থেকে আমরা শুরু করছি। ভবিষ্যতে যেন কোনো অপশক্তি ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, সেজন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত অবদানে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে বলে বিশ্বাস করি।”
নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং আমাদের ইশতেহারেও সেগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার আমরা বাস্তবায়ন করবো।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করেছে। তিনি দেশ ও জাতির স্বার্থে ছিলেন অটল ও অবিচল।”
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “দেশ গঠনে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শত উসকানির মুখেও শান্ত ও সংযত থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন নির্বাচনের পর অপ্রতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। ন্যায়পরায়ণতা হবে আমাদের আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে দেশ ব্যর্থ হবে।”
বর্তমান সময়ে দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ থেকে মুক্ত রাখা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন।