
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ১৪ বছর বয়সী নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা ও ছেলেকে ঢাকার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সাদুল্লাপুর থানার ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সুপদ হালদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেঙ্গুলিয়া গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে ফিরোজ মিয়া (৪৫) এবং তার ছেলে আহসান হাবিব আপেল (২২)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে সাদুল্লাপুর উপজেলার নিচিন্তীপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুন নবী তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ের নিখোঁজের ঘটনায় সাদুল্লাপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী পলাশবাড়ী পিয়ারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মামলাটির নম্বর ২১।
মামলায় আহসান হাবিব আপেল ও তার বাবা ফিরোজ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আহসান হাবিব আপেল নিচিন্তীপুর গ্রামে তার মামার বাড়িতে অবস্থানকালে নুরুন নবীর স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই কিশোরীকে উদ্ধারে এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর ছিল পুলিশ। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সুপদ হালদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।
পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করে পুলিশ।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিউর রহমান গ্রেপ্তার ও উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
কিশোরীকে উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।