মানবতার পক্ষে লড়াই, উগ্রতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান
ইনসানিয়াত বিপ্লবের ৪৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা।
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি :
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোছাদ্দিকুল ইসলাম তাঁর দলের ৪৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে অবস্থিত ইনসানিয়াত বিপ্লবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট মোছাদ্দিকুল ইসলাম বলেন,“দেশ আজ উগ্রবাদ, বৈষম্য ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ভয়াবহ চাপে বিপর্যস্ত। ঠিক এই সংকটময় সময়ে মানবতার পক্ষে আপসহীন অবস্থান নিয়ে ইনসানিয়াত বিপ্লব নির্বাচনী মাঠে নেমেছে।”
তিনি বলেন, আসন্ন রাষ্ট্রীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৩ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব মানবিক রাষ্ট্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির স্পষ্ট বার্তা নিয়ে জনগণের সামনে এসেছে। একক ধর্মের উগ্রতা ও একক গোষ্ঠীবাদী জাতীয়তাবাদের নামে চলমান খুন, সন্ত্রাস, জুলুম ও বৈষম্য রাষ্ট্র ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অমানবিক রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন,
“সব ধর্ম, সব মত ও সব মানুষের জন্য সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই প্রকৃত রাজনীতি। ক্ষমতা দখলের রাজনীতি নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা, ন্যায়বিচার ও কল্যাণের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনাই ইনসানিয়াত বিপ্লবের আদর্শ।”
ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, ধর্মের সত্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা, ধর্মের মুক্ত প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, ধর্মের নামে রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি ও আবেগের অপব্যবহার রোধ, ধর্মের বিকৃতি প্রতিরোধ এবং উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হবে। একই সঙ্গে ধর্মের নামে রাজনৈতিক দল গঠন বা একক ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে কোনো অপচেষ্টা সাংবিধানিকভাবে বন্ধ করার অঙ্গীকার করা হয়।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক দল একক ধর্ম বা একক বস্তুবাদী জাতীয়তাবাদভিত্তিক কিংবা বর্ণবাদী মতাদর্শে গঠিত হতে পারবে না। রাজনৈতিক দল হতে হলে তা হতে হবে সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল, যাতে রাষ্ট্র কোনো একক গোষ্ঠীর দখলে গিয়ে মানবতাবিরোধী হাতিয়ারে পরিণত না হয়।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মোছাদ্দিকুল ইসলাম বলেন, শিশু-কিশোরদের স্কুলের শিক্ষা হতে হবে সহজ, আনন্দময় ও তাদের স্বভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিক্ষা হবে ভয়ভীতিমুক্ত, নির্যাতনমুক্ত ও চাপমুক্ত। শিশুকাল থেকেই নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যভিত্তিক জীবনবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সব ধর্মের শিশুদের নিজ নিজ ধর্মের মৌলিক সত্য ও মানবিক শিক্ষায় বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, নিরাপদ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবে জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে কিংবা জনজীবনে সংকট তৈরি করে কোনো ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা পেশাগত সমাবেশ কিংবা অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।
গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“আপেল মার্কায় ভোট দিন—মানবতার পক্ষে দাঁড়ান। ইনসানিয়াত বিপ্লব কোনো প্রচলিত ক্ষমতার রাজনীতির অংশ নয়; এটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের এক নির্ভীক আন্দোলন।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, মানবতার অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে জনগণই শেষ ভরসা। জনগণ ভোটের মাধ্যমে মানবতার রাজনীতিকে শক্তিশালী করলে বাংলাদেশে ন্যায়, সাম্য ও মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
উল্লেখ্য, ইনসানিয়াত বিপ্লব বা World Humanity Revolution রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পরিসরে সর্বজনীন মানবতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।