
রংপুর প্রতিনিধি :
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, গত ১৫ বছর ধরে পুলিশকে একটি দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, যার ফলে বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে আবারও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ সদর দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করছে।
শনিবার (—) দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে রংপুর বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আইজিপি বলেন,
“আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি। জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক মানুষ শহীদ হয়েছেন। কিছু লোভী ও দলকানা পুলিশ সদস্যের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো বাহিনীকে বড় দায়ভার বহন করতে হয়েছে।”
এই সংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মনোবল পুনর্গঠনে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
আইন প্রয়োগে বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বাহারুল আলম বলেন,
“এখন আইনগত দায়িত্ব পালন করতে গেলেও অনেক সময় মানুষ ভুল বোঝে। অথচ পুলিশকে নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করতে দিতে হবে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরও বলেন, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের কাছে পূর্ণ সমর্থন ও ‘সবুজ সংকেত’ চাওয়া হয়েছে, যাতে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা ভয় ছাড়াই পুলিশ কাজ করতে পারে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
“এই প্রথম নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩৩ হাজার পুলিশ সদস্যের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে,” বলেন তিনি।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় ৬ লাখ আনসার সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান আইজিপি। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“জুলাই–আগস্ট পরবর্তী সময়ে যেখানেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে মামলা করা হয়েছে। তবে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আসামি ধরলে দলীয় লোকজন চাপ সৃষ্টি করে, থানা ঘেরাও করে—এটা বন্ধ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হয়ে পড়বে।”
বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার দিকেও ইঙ্গিত করে আইজিপি বলেন,
“গত ১০ বছরে রংপুর বিভাগে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার মাত্র এক-তৃতীয়াংশের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার এই দুর্বলতা অপরাধীদের উৎসাহিত করছে।”
এক্ষেত্রে সরকারকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।