
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরে সংসদ সদস্যদের সমর্থনের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন।
সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় এবং তাদের সভাপতিত্বেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। তবে এবার এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। অন্যদিকে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক বীর বিক্রম লাভ করেন। তিনি একসময় পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের স্বীকৃতিও পান।
তার বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে পরপর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘পান’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা তার কাছে পরাজিত হন।
পরে ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আবারও বিজয়ী হন। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অষ্টম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি ১১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২২ মে ২০০৩ পর্যন্ত পাটমন্ত্রী এবং পরে ২২ মে ২০০৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর লালমোহন-তজুমদ্দিন এলাকায় বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।