
গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান কাটার মৌসুম শেষ না হতেই আবাদি জমির মাটি বিক্রির অবৈধ তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ী সহজ-সরল ও অসচেতন কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি স্বল্পমূল্যে কিনে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে কেটে নিচ্ছে। পরে সেই মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অধিক দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে কোথাও কোথাও কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে, যা আইনত দণ্ডনীয়।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের ‘টপ সয়েল’ ফসল উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এই উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা আইনসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও ট্রলি সংযুক্ত অবৈধ যান চলাচলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন পাকা ও কাঁচা গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার বড় অংশ ধসে পড়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ধুলাবালির কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে সরকারকে বারবার বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের হরিনাথপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন ভোর থেকে ৮–১০টি ট্রাক্টরের মাধ্যমে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে একদিকে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারী ও স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক্টরের বিকট শব্দ আর ধুলাবালিতে শিশুদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বাড়িতে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে মাটি ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে আবাদি জমি থেকে ভেকু ও অন্যান্য উপায়ে মাটি কাটা বন্ধ, অবৈধ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় উর্বর জমি ধ্বংসের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।