
২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জন্য **সৌদি আরব সরকার মোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে, যার মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজারটি কাজের ভিসা। এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।
রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। সাক্ষাতে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়ার ঐতিহাসিক সৌদি সফর মুসলিম ঐক্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উভয়পক্ষই স্বীকার করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি নেতৃত্বের অবদান প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়ার অনুরোধে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে সৌদি আরবের সহায়তার কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের চলমান মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সৌদি সমর্থন কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সৌদি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
এছাড়া সৌদি রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সৌদি ভিশন ২০৩০-এর আওতায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান-এর নেতৃত্বাধীন সংস্কার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।