
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শক্তিশালী কূটনৈতিক লবিং ও প্রত্যক্ষ চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতার ধারাবাহিক সুপারিশ, চাপ ও উসকানির প্রভাবেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
চারটি পৃথক গোয়েন্দা সূত্রের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে ব্যাপকভাবে তদবির করে আসছিল।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাবকে ইসরায়েলের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গত এক মাসে একাধিক গোপন টেলিফোন আলাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযানে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী এক দশকের মধ্যে ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা অত্যন্ত কম। তবে এই মূল্যায়নের পরও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও কৌশলগত ইঙ্গিতের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার’ লক্ষ্যে ব্যাপক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে দিতে পারে এবং ওয়াশিংটন–তেহরান সম্পর্ককে সরাসরি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
শনিবার ভোরে পরিচালিত এই সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার পরিবারের একাধিক সদস্যসহ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। তেহরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এই সংঘাত দ্রুতই পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।