
সংসদ নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে অবশেষে সরকার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অধ্যাদেশ জারি করেছে। এতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে—
ফেরারি আসামি ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত কেউ আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না,
‘না’ ভোট ফেরানো হয়েছে, এবং ইভিএম ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার রাতে জারি করা এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো আদালতের ঘোষণায় পলাতক বা ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবে না।
একই সঙ্গে প্রার্থীদের আর্থিক দায়বদ্ধতা কঠোর করা হয়েছে— এখন থেকে দেশি-বিদেশি আয়, সম্পদ, রিটার্নসহ সব তথ্য হলফনামায় দিতে হবে। মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে এমপি পদও বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আর কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলেও ব্যালটে থাকবে ‘না ভোটের’ বিকল্প।
যদি ‘না ভোট’ বেশি হয়, তাহলে পুনরায় ভোট হবে।
নতুন বিধানে বলা হয়েছে, কোনো দল জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করে হাতে ভোট গণনায় ফেরার সিদ্ধান্তও এতে যুক্ত হয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আওতায় আনা হয়েছে, ফলে সেনা মোতায়েনে কমিশনের আর জটিলতা থাকবে না।
ভোট গণনার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতির সুযোগ, প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিংয়ের সুবিধাও যুক্ত হয়েছে।
আচরণবিধি ভঙ্গ করলে এখন থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে— এমন বিধান যুক্ত হয়েছে দলের ক্ষেত্রেও।
নতুন সংশোধনীতে আরও যুক্ত হয়েছে—
🔹 সমান ভোট হলে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট,
🔹 প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ভোটারপ্রতি ১০ টাকায় সীমিত,
🔹 অনুদানের হিসাব প্রকাশে বাধ্যবাধকতা,
🔹 এবং এআই বা গুজব ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ালে শাস্তির বিধান।
সবমিলিয়ে, নতুন আরপিও সংশোধনে সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তি নির্ভরতা হ্রাসের দিকেই অগ্রসর হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।