ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

কুমিল্লা-৪ আসনে সম্পদে বৈষম্য: এনসিপির হাসনাতের নেই বাড়ি-গাড়ি, বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রীই কোটিপতি

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা-৪ আসনে সম্পদে বৈষম্য: এনসিপির হাসনাতের নেই বাড়ি-গাড়ি, বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রীই কোটিপতি

কুমিল্লা প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সম্পদের বড় ধরনের পার্থক্য। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসনাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহ যেখানে নিজেকে মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী হিসেবে তুলে ধরেছেন, সেখানে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও তাঁর স্ত্রী মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। ব্যবসাই তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস। শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা অন্য কোনো খাতে তাঁর আয় নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৫৩১ টাকা। আয়কর রিটার্নে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

দেবীদ্বার উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা হাসনাতের জন্ম ১৯৯৮ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই তরুণ রাজনীতিবিদের নামে কোনো মামলা নেই। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর কোনো কৃষি বা অকৃষিজমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা, ব্যাংকের দুই হিসাবে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা, ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, ৬৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র। পেশায় গৃহিণী তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই এবং তাঁর কোনো ব্যাংক ঋণও নেই।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি। তবে তাঁর তুলনায় স্ত্রী মাজেদা আহসানের সম্পদ আরও বেশি, যা ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকারও বেশি। মঞ্জুরুল আহসান কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, মঞ্জুরুল আহসান কৃষি খাত থেকে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আয় করেন। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে বছরে ভাতা পান ১২ লাখ টাকা। তাঁর শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের মূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি। তাঁর ও স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, যানবাহন, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। স্থাবর সম্পদের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৪৫ একর কৃষিজমি রয়েছে। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর নামে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার মূল্য ২ কোটির বেশি।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ২৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন, বাকিগুলোর কার্যক্রম স্থগিত বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার কারণে কুমিল্লা-৪ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (শহীদ)। ফলে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এই আসনে এনসিপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, কুমিল্লা-৪ আসনে মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ২ জানুয়ারি এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুমিল্লা-৪ আসনে সম্পদে বৈষম্য: এনসিপির হাসনাতের নেই বাড়ি-গাড়ি, বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রীই কোটিপতি

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সম্পদের বড় ধরনের পার্থক্য। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসনাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহ যেখানে নিজেকে মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী হিসেবে তুলে ধরেছেন, সেখানে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও তাঁর স্ত্রী মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। ব্যবসাই তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস। শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা অন্য কোনো খাতে তাঁর আয় নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৫৩১ টাকা। আয়কর রিটার্নে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

দেবীদ্বার উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা হাসনাতের জন্ম ১৯৯৮ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই তরুণ রাজনীতিবিদের নামে কোনো মামলা নেই। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর কোনো কৃষি বা অকৃষিজমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা, ব্যাংকের দুই হিসাবে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা, ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, ৬৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র। পেশায় গৃহিণী তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই এবং তাঁর কোনো ব্যাংক ঋণও নেই।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি। তবে তাঁর তুলনায় স্ত্রী মাজেদা আহসানের সম্পদ আরও বেশি, যা ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকারও বেশি। মঞ্জুরুল আহসান কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, মঞ্জুরুল আহসান কৃষি খাত থেকে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আয় করেন। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে বছরে ভাতা পান ১২ লাখ টাকা। তাঁর শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের মূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি। তাঁর ও স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, যানবাহন, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। স্থাবর সম্পদের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৪৫ একর কৃষিজমি রয়েছে। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর নামে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার মূল্য ২ কোটির বেশি।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ২৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন, বাকিগুলোর কার্যক্রম স্থগিত বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার কারণে কুমিল্লা-৪ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (শহীদ)। ফলে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এই আসনে এনসিপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, কুমিল্লা-৪ আসনে মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ২ জানুয়ারি এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

শেয়ার করুন