ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

ডেভিল হান্ট টু’: মানুষের মনে স্বস্তির বদলে আতঙ্ক-ই বেশি কেন গাইবান্ধায়?

  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৮৪ বার পড়া হয়েছে

ডেভিল হান্ট টু’: মানুষের মনে স্বস্তির বদলে আতঙ্ক-ই বেশি কেন গাইবান্ধায়?

গাইবান্ধায় সম্প্রতি শুরু হওয়া ‘ডেভিল হান্ট টু’ অপারেশনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির চেয়ে আতঙ্কই যেন বেশি জায়গা করে নিয়েছে। অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা—এটাই আমাদের সবার যৌক্তিক প্রত্যাশা।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অপারেশনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় যে ভীতি, বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।

আতঙ্ককে পুঁজি করে সুযোগসন্ধানী বাণিজ্য

দুঃখজনক হলেও সত্য, এই আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল। তারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বলছে—
“ডেভিল হান্টের তালিকায় তোমার নাম আছে, যেকোনো সময় ধরা পড়তে পারো।”

এই এক বাক্যেই শুরু হয় মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা ও ভয়। এরপর আসে তথাকথিত ‘সমাধান’—থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে নাম কাটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস, ব্ল্যাকমেইল কিংবা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি। অনেক নিরীহ মানুষ, যাদের অপরাধের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততাও নেই, তারাও এই আতঙ্কে পড়ে সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

প্রশাসনের কাছে নাগরিকদের জরুরি প্রশ্ন

একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গাইবান্ধার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু স্পষ্ট প্রশ্ন উঠে আসে—

  • ‘ডেভিল’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করার মানদণ্ড কী?

  • কতটুকু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে একজন মানুষ অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন?

  • কারও সঙ্গে একটি ছবি থাকলেই কি সে অপরাধী?

  • অতীতে কোনো মিছিলে অংশ নেওয়া বা ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকাই কি গ্রেফতারের কারণ?

  • নাকি আবেগের বশে কোনো একদিন একটি স্লোগান দেওয়াই কাউকে ‘ডেভিল’ বানিয়ে দেবে?

এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট ও প্রকাশ্য উত্তর না থাকায় আতঙ্ক বহুগুণে বেড়েছে। যাদের অপরাধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, তারাও আজ গ্রেফতার-ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সামাজিক স্থিতিশীলতা।

আমাদের চাওয়া খুব সাধারণ, কিন্তু জরুরি

গাইবান্ধার মানুষের দাবি কোনোভাবেই অযৌক্তিক নয়। আমরা চাই—

  • প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হোক

  • অপরাধের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক

  • আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক

একই সঙ্গে আমরা দৃঢ়ভাবে চাই—

  • কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন ভয়, হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হয়

  • আতঙ্কের সুযোগে কোনো দালাল বা ভুঁইফোড় চক্র যেন সমাজে তাণ্ডব চালাতে না পারে

নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ

সবাইকে অনুরোধ—
কোনো গুজব, ভয় দেখানো ফোনকল কিংবা দালালের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে অর্থ লেনদেনে জড়াবেন না। প্রয়োজনে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন, সত্য তথ্য দিন, সহযোগিতা করুন—কিন্তু আতঙ্কে পড়ে প্রতারকদের সুযোগ করে দেবেন না।

গাইবান্ধার মানুষের চাওয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার।
আতঙ্ক নয়, অরাজকতা নয়।

গাইবান্ধার শান্তির পক্ষে আমরা সবাই।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডেভিল হান্ট টু’: মানুষের মনে স্বস্তির বদলে আতঙ্ক-ই বেশি কেন গাইবান্ধায়?

আপডেট সময় : ০৬:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধায় সম্প্রতি শুরু হওয়া ‘ডেভিল হান্ট টু’ অপারেশনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির চেয়ে আতঙ্কই যেন বেশি জায়গা করে নিয়েছে। অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা—এটাই আমাদের সবার যৌক্তিক প্রত্যাশা।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অপারেশনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় যে ভীতি, বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।

আতঙ্ককে পুঁজি করে সুযোগসন্ধানী বাণিজ্য

দুঃখজনক হলেও সত্য, এই আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল। তারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বলছে—
“ডেভিল হান্টের তালিকায় তোমার নাম আছে, যেকোনো সময় ধরা পড়তে পারো।”

এই এক বাক্যেই শুরু হয় মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা ও ভয়। এরপর আসে তথাকথিত ‘সমাধান’—থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে নাম কাটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস, ব্ল্যাকমেইল কিংবা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি। অনেক নিরীহ মানুষ, যাদের অপরাধের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততাও নেই, তারাও এই আতঙ্কে পড়ে সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

প্রশাসনের কাছে নাগরিকদের জরুরি প্রশ্ন

একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গাইবান্ধার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু স্পষ্ট প্রশ্ন উঠে আসে—

  • ‘ডেভিল’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করার মানদণ্ড কী?

  • কতটুকু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে একজন মানুষ অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন?

  • কারও সঙ্গে একটি ছবি থাকলেই কি সে অপরাধী?

  • অতীতে কোনো মিছিলে অংশ নেওয়া বা ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকাই কি গ্রেফতারের কারণ?

  • নাকি আবেগের বশে কোনো একদিন একটি স্লোগান দেওয়াই কাউকে ‘ডেভিল’ বানিয়ে দেবে?

এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট ও প্রকাশ্য উত্তর না থাকায় আতঙ্ক বহুগুণে বেড়েছে। যাদের অপরাধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, তারাও আজ গ্রেফতার-ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সামাজিক স্থিতিশীলতা।

আমাদের চাওয়া খুব সাধারণ, কিন্তু জরুরি

গাইবান্ধার মানুষের দাবি কোনোভাবেই অযৌক্তিক নয়। আমরা চাই—

  • প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হোক

  • অপরাধের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক

  • আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক

একই সঙ্গে আমরা দৃঢ়ভাবে চাই—

  • কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন ভয়, হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হয়

  • আতঙ্কের সুযোগে কোনো দালাল বা ভুঁইফোড় চক্র যেন সমাজে তাণ্ডব চালাতে না পারে

নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ

সবাইকে অনুরোধ—
কোনো গুজব, ভয় দেখানো ফোনকল কিংবা দালালের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে অর্থ লেনদেনে জড়াবেন না। প্রয়োজনে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন, সত্য তথ্য দিন, সহযোগিতা করুন—কিন্তু আতঙ্কে পড়ে প্রতারকদের সুযোগ করে দেবেন না।

গাইবান্ধার মানুষের চাওয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার।
আতঙ্ক নয়, অরাজকতা নয়।

গাইবান্ধার শান্তির পক্ষে আমরা সবাই।

শেয়ার করুন