দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা: আ’গুনে দগ্ধ গৃহবধূ ঘরের মেঝেতে কাতরাচ্ছেন, হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য নেই।
- আপডেট সময় : ০২:০৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৩৭ বার পড়া হয়েছে
দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা: আ’গুনে দগ্ধ গৃহবধূ ঘরের মেঝেতে কাতরাচ্ছেন, হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য নেই।

সাদুল্লাপুর সংবাদদাতা | ১৪ জানুয়ারি:
চুলায় ভাত রান্নার সময় এক মুহূর্তের অসতর্কতায় পরনের কাপড়ে আগুন ধরে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন এক গৃহবধূ। দারিদ্র্যের কারণে উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা—হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্যও নেই পরিবারের। ফলে ঘরের মেঝেতেই শুয়ে তীব্র যন্ত্রণায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফমহদী উত্তরপাড়া গ্রামে। আহত গৃহবধূ ওই গ্রামের দিনমজুর কাঠমিস্ত্রি আলম আকন্দের স্ত্রী আছমা বেগম। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগুনে আছমা বেগমের শরীরের বড় একটি অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। তবে চরম দারিদ্র্যের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পল্লী চিকিৎসকের দেওয়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অসহনীয় যন্ত্রণা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা যাচ্ছে তার তিনটি শিশু সন্তানের চোখে। ঘরের এক কোণে বসে দুই মেয়ে ও এক ছেলে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। মায়ের যন্ত্রণা দেখে বারবার শিশুকণ্ঠে ভেসে আসছে আকুতি—
“আম্মুকে বাঁচাও… আম্মুকে হাসপাতালে নাও…”
কিন্তু সেই আকুতির জবাব দেওয়ার মতো কিছুই নেই অসহায় বাবা আলম আকন্দের হাতে। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন,
“চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার বাচ্চাগুলা সারাদিন কান্না করে। ওদের মাকে বাঁচাতে পারলে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।”
এ ঘটনায় পরিবারটি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে তিনটি নিষ্পাপ শিশুর মাথার ওপর থেকে মায়ের ছায়া চিরতরে সরে যেতে পারে।
এখনই সহায়তার হাত বাড়ানো না হলে একটি পরিবার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে—এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।
বিঃদ্রঃ কেউ আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে চাইলে:
যোগাযোগ: বিকাশ: ০১৭৮১৬০১৩১৬









