রংপুরে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান।
- আপডেট সময় : ০৪:০০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২২৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি | গাইবান্ধা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমানকে রংপুর নগরী থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
রংপুর মহানগর পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, তিনি গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আজিজার রহমান।
কীভাবে অজ্ঞান হলেন
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমানের মনোনয়নপত্র প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়।
আপিল কার্যক্রম শেষে তিনি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী একটি বাসে করে গাইবান্ধার উদ্দেশে রওনা দেন। যাত্রাপথে সিরাজগঞ্জ এলাকায় তিনি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন বলে অভিযোগ করেন।
আজিজার রহমানের ভাষ্যমতে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাকে ডিম খাওয়ানোর পর অচেতন করে ফেলে। পরে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় পৌঁছে তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশি ব্যবস্থা
পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তাকে তাজহাট থানায় নিয়ে যায়।
ওসি আতাউর রহমান বলেন,
“বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিবারের বক্তব্য
আজিজার রহমানের মেয়ে আশা মনি বলেন,
“আমার বাবা বর্তমানে তাজহাট থানায় রয়েছেন। আমরা পরিবারের লোকজন তাকে নিতে এসেছি। কিছুক্ষণ পর তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবো।”
এলাকায় চাঞ্চল্য
নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এভাবে অজ্ঞান পার্টির শিকার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহল।










