গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচনী হালচাল উন্নয়ন বঞ্চনা কাটিয়ে যোগ্য নেতৃত্বই চান পলাশবাড়ী–সাদুল্লাপুরের ভোটাররা
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৪৭ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচনী হালচাল উন্নয়ন বঞ্চনা কাটিয়ে যোগ্য নেতৃত্বই চান পলাশবাড়ী–সাদুল্লাপুরের ভোটাররা

গাইবান্ধা-৩ সংসদীয় আসনটি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। কৃষিনির্ভর ও গ্রামীণ এই জনপদটি দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ এলাকার উন্নয়ন চাহিদা, ভোটারদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বাড়ছে আলোচনা।
স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ছোট-বড় শিল্পকারখানা স্থাপন। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে কাজের অভাবে তরুণদের বড় একটি অংশ বাধ্য হয়ে জেলা ও রাজধানীমুখী হচ্ছে।
স্বাস্থ্যখাতেও রয়েছে দীর্ঘদিনের সংকট। পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও জনবল নিয়োগের দাবি এলাকাবাসীর। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কের পাশে পলাশবাড়ীতে একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনকে সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এই অঞ্চলের উন্নয়নের আরেকটি বড় বাধা। অনেক সড়ক ও নদ-নদীর অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও সংস্কারের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে কৃষিজমি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
কৃষিনির্ভর এলাকা হলেও কৃষি উৎপাদনে দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা যুগে যুগে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি তাদের।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, সরকারি উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নের সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাবে এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত এই অঞ্চলটি দেশের মূল উন্নয়ন ধারায় যুক্ত হবে।
ভোটার সংখ্যা ও কেন্দ্র
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী গাইবান্ধা-৩ আসনে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৯০৫ জন। এতে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৯ জন।
পলাশবাড়ী উপজেলায় নতুন ভোটার বেড়েছে ১১ হাজার ১৪০ জন এবং সাদুল্লাপুর উপজেলায় বেড়েছে ১৬ হাজার ৭৬৫ জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৬টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৯৫৮টি।
প্রার্থীদের তালিকা
মনোনয়ন দাখিল, যাচাই-বাছাই ও হাইকোর্টের আদেশ শেষে গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন—
-
বিএনপি: অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক
-
জামায়াতে ইসলামী: আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম
-
জাতীয় পার্টি: মইনুর রাব্বী চৌধুরী
-
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ: মোছাদ্দিকুল ইসলাম
-
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: এ টি এম আওলাদ হোসাইন
-
গণ অধিকার পরিষদ: সুরুজ মিয়া
-
স্বতন্ত্র: এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি
-
স্বতন্ত্র: আজিজার রহমান বিএসসি
সব প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে সাধারণ ভোটারদের স্পষ্ট বক্তব্য—শক্তি বা অর্থের প্রভাব নয়, যোগ্যতা ও গণমানুষের পাশে থাকা ব্যক্তিকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের সহযোগিতায় এবারের নির্বাচন গণতন্ত্রের এক উৎসবে পরিণত হবে।









