ঢাকায় ৬৯৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভির আওতায় ভোটগ্রহণ
- আপডেট সময় : ০৬:০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১১৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরীর ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৫টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১ হাজার ১৩৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রে যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৫৬টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, এবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং একই প্রক্রিয়ায় দেশের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের দেড় লাখ সদস্যকে নির্বাচনের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবুও ভোটের পরিবেশ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ নিরাপদ পরিবেশ পেলে ভোট দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, আবার কেউ শঙ্কার কথাও জানাচ্ছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র, মব সহিংসতা এবং ভোটকেন্দ্র দখলের মানসিকতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “অতীতে যে চ্যালেঞ্জগুলো ছিল, সেগুলো যেকোনো সময় সক্রিয় হতে পারে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র ও ভোটকেন্দ্র দখলের প্রবণতা নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে।”
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান রয়েছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট—ফেজ ২’। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকেও রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, “ভোটকেন্দ্রগুলোর অবস্থান ও ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়ের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।”
পুলিশের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।










