২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে জামায়াত প্রার্থীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম
- আপডেট সময় : ০৩:১৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যানসহ প্রবেশের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর ঘটনায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’। অন্যথায় তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পিএনজি (পারসোনা নন গ্রেটা) ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আলটিমেটামের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যরা বাধা দিলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের আচরণ ও বক্তব্য সামরিক বাহিনীর মনোবল, মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত হানে। এ ঘটনায় এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করার অধিকার দেয় না। ক্যান্টনমেন্ট কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জায়গা নয়; এটি একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এলাকা।
সংগঠনটি জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী তার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি না দিলে তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পিএনজি ঘোষণা করার জোরালো দাবি জানানো হবে। রাষ্ট্রের আইন, সামরিক বাহিনীর মর্যাদা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, ঘটনার একটি ৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গানম্যানসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডা. খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা তাকে বাধা দেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথাকাটি হয়।
ভিডিওতে এক সেনাসদস্যকে বলতে শোনা যায়, “আমরা আপনাকে যেতে নিষেধ করিনি। কিন্তু ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ।” জবাবে খালিদুজ্জামান সেনাসদস্যদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং প্রশাসন ও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
পরে তিনি মোবাইল ফোনে এক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেও কোনো নির্দেশনা না পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর দুপুরে ডা. খালিদুজ্জামান নিজের ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তার এই দুঃখ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কঠোর বিবৃতি ও আলটিমেটাম দেওয়া হয়।










