যমুনার সামনে বি*ক্ষোভ: ২৩ জন আহত — গু*লি ছোড়া হয়নি বলে সরকারের দাবি
- আপডেট সময় : ০৩:০১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১১৯ বার পড়া হয়েছে

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র (lethal weapon) ব্যবহার করা হয়নি বলেও নিশ্চিত করেছে ডিএমপি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের তথ্যানুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে তারা বদ্ধপরিকর। এ ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেছে সরকার।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। ইতোমধ্যে বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক দেশে উপস্থিত হয়েছেন।
সরকার একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে দেশের সব নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক এবং তা অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে।










