গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের চারটিতে জামায়াত এবং একটিতে বিএনপি জয়ী
- আপডেট সময় : ০২:০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

সাদুল্লাপুর(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিপুল ভোট ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। একমাত্র গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে মাত্র ৩ হাজার ৫১২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গাইবান্ধা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফলাফল কন্ট্রোল রুম থেকে আসনভিত্তিক ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকেও কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে ফল জানানো হয়েছিল।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ): বড় ব্যবধানে জামায়াতের জয়
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. মাজেদুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রার্থী জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মাদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী; তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার। ১২৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। জয়ী প্রার্থীর ভোট ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ২ হাজার ৭২৯।
গাইবান্ধা-২ (সদর): প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও এগিয়ে জামায়াত
জামায়াতের মো. আব্দুল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২৩০ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের আনিচ্ছুজামান খান বাবু পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮৯০ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. আব্দুল মাজেদ; পেয়েছেন ২ হাজার ৩৬৭ ভোট।
ভোটগ্রহণের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী): ২১ হাজারের বেশি ভোটে জয়
এই আসনে জামায়াত মনোনীত আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. মইনুল হাসান সাদিক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ ভোট। ভোট ব্যবধান ২১ হাজার ৮৫২।
তৃতীয় হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের এটিএম আওলাদ হোসাইন পলাশ; পেয়েছেন ২ হাজার ৮১৬ ভোট।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ): হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপির জয়
জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ)-এ ধানের শীষ প্রতীকের মো. শামীম কায়সার লিংকন পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. আব্দুর রহিম সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ ভোট। ব্যবধান মাত্র ৩ হাজার ৫১২ ভোট।
তৃতীয় হয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের মশিউর রহমান; পেয়েছেন ২ হাজার ৩৩০ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭১ জন। ভোটগ্রহণের হার ছিল ৬২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
গাইবান্ধা-৫: ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জামায়াতের জয়
জামায়াতের আব্দুল ওয়ারেছ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭২ হাজার ৭৪১ ভোট। ভোট ব্যবধান ১৫ হাজার ১৭২।
তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ; মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২৩৫ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬২ জন। ভোটগ্রহণের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।
সার্বিক চিত্র
জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়ে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ গাইবান্ধা-৪ আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।
ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।










