গাইবান্ধায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন: চার আসনে জামায়াতের জয়, ভরাডুবিতে বিএনপি
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতেই জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অপরদিকে, প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে বড় ধরনের ভরাডুবির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নানা অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও সাংগঠনিক ব্যর্থতাই বিএনপির পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসায় আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির একাধিক অভিযোগ ছিল। এছাড়া মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, কাউন্সিল ও দলীয় কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ-পদবি বণ্টন, সাধারণ জনগণের প্রতি গাছাড়া মনোভাব এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা ও ‘সেলফিবাজি’ সংস্কৃতি দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। প্রতিপক্ষের অর্থ দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণে সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি নেতৃত্ব। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের একটি বড় অংশ নীরব ব্যালটের মাধ্যমে অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে তারা মনে করেন।
সুযোগ কাজে লাগিয়েছে জামায়াতে ইসলামী
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগঠিত প্রচারণা, তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় যোগাযোগ এবং তুলনামূলক শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যায় জামায়াতে ইসলামী। ফলাফল হিসেবে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিজয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় দলটি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এবার ভোটাররা ব্যক্তি ইমেজ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। নিয়মিত জনসংযোগ, ইস্যুভিত্তিক প্রচারণা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি জয়ী প্রার্থীদের পক্ষে বড় ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই ফলাফল রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—
দলীয় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই জনসমর্থন ধরে রাখা সম্ভব নয়।
গাইবান্ধার রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ফলাফল নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে দলগুলো কীভাবে আত্মসমালোচনা, পুনর্গঠন ও কার্যকর কৌশলের মাধ্যমে জনআস্থা পুনরুদ্ধার করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।










