হামলার হুমকিতে ইরানের কড়া পাল্টা হুঁশিয়ারি: মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’
- আপডেট সময় : ০৮:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১১৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক হুমকি ও সম্ভাব্য আক্রমণের প্রেক্ষাপটে কড়া পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এক চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এ হুঁশিয়ারি দেন। চিঠিতে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক ‘যুদ্ধবাজ বক্তব্য’ সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের হাতে মাত্র ১৫ দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে সামরিক হামলার পথ বেছে নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এমনকি প্রয়োজনে ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপ ও যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেন।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। রাষ্ট্রদূত ইরাভানি তার চিঠিতে বলেন, তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত। জেনেভায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতির আভাস মিললেও এখনো যুদ্ধের শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।










