ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

দাদি-নাতনির হত্যাকাণ্ডে ক্লু হাতে পেছেয়ে পুলিশ: দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস

  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৬২ বার পড়া হয়েছে

দাদি-নাতনির হত্যাকাণ্ডে ক্লু হাতে পেছেয়ে পুলিশ: দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস

পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে দাদি ও নাতনির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্তের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশাবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) খন্দকার মো. শামীম হোসেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্লুর ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। একটি টিম ঈশ্বরদীর বাইরে অবস্থান নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং আরেকটি টিম সম্ভাব্য আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, “ঘটনাটিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আশা করছি, খুব দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ জানায়, নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে নাতনিকে অপহরণ করতে গেলে দাদি বাধা দেন। এতে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দাদিকে হত্যা করা হয় এবং পরে কিশোরী নাতনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। মধ্যরাতে কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের কয়েকজন বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে যাওয়ায় তারা ঘরে ফিরে যান।

শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে ৭০ বছর বয়সী সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা চিৎকার শুরু করেন। পরে তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি জামিলা আক্তারকে খুঁজে না পেয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতদের পরিচয়

নিহত সুফিয়া বেগম ভবানীপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মৃত নাজিমুদ্দিন খাঁ’র স্ত্রী। তার নাতনি জামিলা আক্তার স্থানীয় কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং একজন হাফেজা ছিলেন। তারা দুজনই একই বাড়িতে বসবাস করতেন।

এলাকায় শোক ও আতঙ্ক

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো ভবানীপুর গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দাদি-নাতনির হত্যাকাণ্ডে ক্লু হাতে পেছেয়ে পুলিশ: দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৫:২৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে দাদি ও নাতনির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্তের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশাবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) খন্দকার মো. শামীম হোসেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্লুর ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। একটি টিম ঈশ্বরদীর বাইরে অবস্থান নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং আরেকটি টিম সম্ভাব্য আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, “ঘটনাটিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আশা করছি, খুব দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ জানায়, নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে নাতনিকে অপহরণ করতে গেলে দাদি বাধা দেন। এতে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দাদিকে হত্যা করা হয় এবং পরে কিশোরী নাতনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। মধ্যরাতে কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের কয়েকজন বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে যাওয়ায় তারা ঘরে ফিরে যান।

শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে ৭০ বছর বয়সী সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা চিৎকার শুরু করেন। পরে তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি জামিলা আক্তারকে খুঁজে না পেয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতদের পরিচয়

নিহত সুফিয়া বেগম ভবানীপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মৃত নাজিমুদ্দিন খাঁ’র স্ত্রী। তার নাতনি জামিলা আক্তার স্থানীয় কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং একজন হাফেজা ছিলেন। তারা দুজনই একই বাড়িতে বসবাস করতেন।

এলাকায় শোক ও আতঙ্ক

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো ভবানীপুর গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

শেয়ার করুন