মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত
- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যম।
রোববার (১ মার্চ) ভোররাতে তেহরানে চালানো লক্ষ্যভিত্তিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় খামেনি তার সরকারি দপ্তরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এই অভিযানে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইরানের পাল্টা হামলা, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্ফোরণ
খামেনির মৃত্যুর পরপরই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিবেও একাধিক রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার ফলে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন, খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হবে।
তিনি বলেন,
“রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আজই অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ ঘোষণা করা হবে। সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণের আগ পর্যন্ত এই পরিষদ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।”
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা
এই ঘটনার পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন দেশ তাদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ও পরবর্তী পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ভয়াবহ পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে।
বিশ্ব শক্তিধর দেশগুলো ইতোমধ্যে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।










