ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার পরিকল্পনায় খুন হন ইবি শিক্ষিকা

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার পরিকল্পনায় খুন হন ইবি শিক্ষিকা

কুষ্টিয়ায় অবস্থিত Islamic University Kushtia–এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক Asma Sadia Runa হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শিক্ষকের স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে Islamic University Police Station–এ মামলাটি করেন।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ফজলুর রহমান সমাজকল্যাণ বিভাগের অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আসমা সাদিয়া বিভাগের সভাপতি হওয়ার পর বিভাগের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আসমার সঙ্গে কয়েকজন সহকর্মীর বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এজাহার অনুযায়ী, বিভাগের অর্থ অপব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে আসমা সাদিয়ার সঙ্গে সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান শ্যাম সুন্দর সরকারের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পরে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসহযোগিতার অভিযোগে ফজলুর রহমানকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয় এবং বিশ্বজিৎকেও বদলি করা হয়।

এরপর ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে আসমা সাদিয়াকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়, দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার প্ররোচনায় ফজলুর রহমান ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসমার অফিসকক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে তাকে হত্যা করেন।

আহত কর্মচারীর বক্তব্য

হামলার ঘটনায় আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ফজলুর রহমান বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং লিখে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বদলি করা ও বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সহকর্মীর মৃত্যুতে তারা শোকাহত এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত এবং কেউ জড়িত থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

ঘটনাটি যেভাবে ঘটে

গত বুধবার বিকেলে নিজ দফতরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন আসমা সাদিয়া। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই কক্ষ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কর্মচারী ফজলুর রহমানকে।

পরদিন বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে আসমা সাদিয়া রুনার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার পরিকল্পনায় খুন হন ইবি শিক্ষিকা

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ায় অবস্থিত Islamic University Kushtia–এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক Asma Sadia Runa হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শিক্ষকের স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে Islamic University Police Station–এ মামলাটি করেন।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ফজলুর রহমান সমাজকল্যাণ বিভাগের অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আসমা সাদিয়া বিভাগের সভাপতি হওয়ার পর বিভাগের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আসমার সঙ্গে কয়েকজন সহকর্মীর বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এজাহার অনুযায়ী, বিভাগের অর্থ অপব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে আসমা সাদিয়ার সঙ্গে সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান শ্যাম সুন্দর সরকারের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পরে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসহযোগিতার অভিযোগে ফজলুর রহমানকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয় এবং বিশ্বজিৎকেও বদলি করা হয়।

এরপর ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে আসমা সাদিয়াকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়, দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার প্ররোচনায় ফজলুর রহমান ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসমার অফিসকক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে তাকে হত্যা করেন।

আহত কর্মচারীর বক্তব্য

হামলার ঘটনায় আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ফজলুর রহমান বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং লিখে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বদলি করা ও বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সহকর্মীর মৃত্যুতে তারা শোকাহত এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত এবং কেউ জড়িত থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

ঘটনাটি যেভাবে ঘটে

গত বুধবার বিকেলে নিজ দফতরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন আসমা সাদিয়া। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই কক্ষ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কর্মচারী ফজলুর রহমানকে।

পরদিন বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে আসমা সাদিয়া রুনার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

শেয়ার করুন