ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

জবাই করা ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগ, সাদুল্লাপুরে ৬ জনের দণ্ড

  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / ১২১ বার পড়া হয়েছে

জবাই করা ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগ, সাদুল্লাপুরে ৬ জনের দণ্ড

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্তদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মোংলা বন্দর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে মোংলা বন্দর এলাকার একটি চাতালের পেছনে কয়েকজন ব্যক্তি একাধিক ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহজনক কার্যক্রমের সত্যতা পান এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান, থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জবাই করা ৯টি ঘোড়ার মাংস ও মাথা জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো নষ্ট করে ফেলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মোমিনুর রহমান, মিন্টু মিয়া, হৃদয় হোসেন, রাজিব হোসেন, মামুন মিয়া ও জোবায়দুর রহমান। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় বলে জানা গেছে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া মামুন মিয়া ও হৃদয় হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর চারজনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার এমন অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের মতে, খাদ্যে ভেজাল ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জবাই করা ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগ, সাদুল্লাপুরে ৬ জনের দণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্তদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মোংলা বন্দর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে মোংলা বন্দর এলাকার একটি চাতালের পেছনে কয়েকজন ব্যক্তি একাধিক ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহজনক কার্যক্রমের সত্যতা পান এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান, থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জবাই করা ৯টি ঘোড়ার মাংস ও মাথা জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো নষ্ট করে ফেলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মোমিনুর রহমান, মিন্টু মিয়া, হৃদয় হোসেন, রাজিব হোসেন, মামুন মিয়া ও জোবায়দুর রহমান। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় বলে জানা গেছে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া মামুন মিয়া ও হৃদয় হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর চারজনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার এমন অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের মতে, খাদ্যে ভেজাল ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

শেয়ার করুন