ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হরিদাস ওরফে তাওহীদ
- আপডেট সময় : ১০:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে চাকরি, বদলি ও পদোন্নতির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস (ওরফে তাওহীদ ইসলাম)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (১২ জুলাই) রাতে সিআইডির একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার বাসিন্দা হরিদাস একসময় রাজধানীর উত্তরায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন। পাশাপাশি পুরোনো এসি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। ওই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সরকারি চাকরি, বদলি ও পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও তিনি আলোচনায় আসেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে তিনি এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে একই অভিযোগে র্যাব তাকে ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় র্যাব জানায়, শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার নামে নগদ প্রায় চার কোটি টাকাসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্যও পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমির ওপর ‘প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক’ নামে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করেন। ২০২১ সালে সেটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
র্যাবের আগের তদন্তে উঠে আসে, হরিদাস ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে যান। সেখানে একটি এতিম সনদ সংগ্রহ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং ইলেকট্রনিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পরে ২০১০ সালে দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেন এবং বিয়ে করেন। এরপর শ্বশুরের পরিচয়ের মাধ্যমে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় জমি কিনে নিজেকে বিত্তশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মহলে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাগুলোর পাশাপাশি নতুন অভিযোগগুলোও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










