ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

সাদুল্লাপুরে ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / ৯৩ বার পড়া হয়েছে

সাদুল্লাপুরে ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে অবস্থিত একটি ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে গ্রাহকদের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার ও পিওন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযোগের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ধাপেরহাট এলাকার জামালপুর গ্রামের ওয়ালিউলের মালিকানাধীন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিওন মাহাবুর ইসলাম ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত (এফডিআর) করার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই অর্থ ব্যাংকের মূল হিসাবে জমা না দিয়ে ভুয়া জমা স্লিপ ও কাগজপত্র সরবরাহ করে দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণার বিষয়টি গোপন রাখতে অভিযুক্তরা নিয়মিতভাবে মুনাফার টাকা পরিশোধ করতেন। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি হয়নি।

সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহক তাদের এফডিআরের টাকা উত্তোলনের জন্য যোগাযোগ করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে গ্রাহকরা ইসলামী ব্যাংকের পীরগঞ্জ শাখায় যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তাদের নামে ব্যাংকের মূল সিস্টেমে কোনো এফডিআর হিসাবই খোলা হয়নি এবং তাদের হাতে থাকা কাগজপত্র ভুয়া।

এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য গ্রাহকরাও নিজেদের কাগজপত্র যাচাই করে একই ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য পান। প্রাথমিকভাবে ৪৪ জন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা।

পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিওন মাহাবুর ইসলাম অভিযোগের দায় স্বীকার করেন বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন এবং কয়েকজনের নামে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের চেকও প্রদান করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, যেহেতু গ্রাহকদের নামে ব্যাংকের মূল সিস্টেমে কোনো এফডিআর হিসাব খোলা হয়নি, তাই ব্যাংক এ অর্থের দায়ভার গ্রহণ করবে না। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা আইনগত বা তথ্যগত সহায়তা চাইলে ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে রাত পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাদুল্লাপুরে ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে অবস্থিত একটি ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে গ্রাহকদের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার ও পিওন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযোগের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ধাপেরহাট এলাকার জামালপুর গ্রামের ওয়ালিউলের মালিকানাধীন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিওন মাহাবুর ইসলাম ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত (এফডিআর) করার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই অর্থ ব্যাংকের মূল হিসাবে জমা না দিয়ে ভুয়া জমা স্লিপ ও কাগজপত্র সরবরাহ করে দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণার বিষয়টি গোপন রাখতে অভিযুক্তরা নিয়মিতভাবে মুনাফার টাকা পরিশোধ করতেন। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি হয়নি।

সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহক তাদের এফডিআরের টাকা উত্তোলনের জন্য যোগাযোগ করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে গ্রাহকরা ইসলামী ব্যাংকের পীরগঞ্জ শাখায় যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তাদের নামে ব্যাংকের মূল সিস্টেমে কোনো এফডিআর হিসাবই খোলা হয়নি এবং তাদের হাতে থাকা কাগজপত্র ভুয়া।

এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য গ্রাহকরাও নিজেদের কাগজপত্র যাচাই করে একই ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য পান। প্রাথমিকভাবে ৪৪ জন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা।

পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিওন মাহাবুর ইসলাম অভিযোগের দায় স্বীকার করেন বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন এবং কয়েকজনের নামে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের চেকও প্রদান করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, যেহেতু গ্রাহকদের নামে ব্যাংকের মূল সিস্টেমে কোনো এফডিআর হিসাব খোলা হয়নি, তাই ব্যাংক এ অর্থের দায়ভার গ্রহণ করবে না। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা আইনগত বা তথ্যগত সহায়তা চাইলে ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে রাত পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন