সাদুল্লাপুরে যুব উন্নয়ন ও মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে ডিজির হস্তক্ষেপ কামনা
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / ২২১ বার পড়া হয়েছে

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, বেকারত্ব নিরসন এবং ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নের লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) মোতাহার হোসেন টিপুর কাছে একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ক্রীড়াবিদ ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে, গাইবান্ধা জেলার জন্য একটি বিশেষ যুব উন্নয়ন প্রকল্প চালু এবং সাদুল্লাপুরে একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি স্থানীয় তরুণদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হিসেবে উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের মতে, গাইবান্ধার বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এ বাস্তবতায় আধুনিক কৃষি, চরাঞ্চলের অর্থনীতি, কুটির ও হস্তশিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘গাইবান্ধা যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ বাজেট, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ওয়ান-স্টপ ঋণসুবিধা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ছাড়া সাদুল্লাপুরে একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম বা যুব ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, ক্রীড়া অবকাঠামোর অভাবে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা নিজেদের বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একটি মানসম্মত স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে যুবসমাজ ক্রীড়ামুখী হবে এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির পথ সুগম হবে।
স্থানীয়দের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, উপজেলায় একটি স্থায়ী যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা। তাদের মতে, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় অনেক তরুণ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ যুগোপযোগী আইটি প্রশিক্ষণের পরিধি ও আসন সংখ্যা বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হয়রানিমুক্ত ও জামানতবিহীন যুব ঋণ চালুর দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সহজ শর্তে দ্রুত ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত হলে অনেক তরুণ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
কৃষিপ্রধান এই উপজেলায় মৎস্য চাষ, গবাদিপশু পালন, কৃত্রিম প্রজনন এবং উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও দাবি করা হয়েছে। এতে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় তরুণ ও যুব সংগঠনের নেতারা বলেন, “সাদুল্লাপুরে মেধার কোনো অভাব নেই, অভাব শুধু সুযোগের। গাইবান্ধার জন্য বিশেষ প্রকল্প, আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এ অঞ্চলের যুবসমাজ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।”
সচেতন নাগরিকরা আশা প্রকাশ করেছেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন টিপু সাদুল্লাপুরসহ গাইবান্ধার যুবসমাজের এই যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
উল্লেখ্য, মোতাহার হোসেন টিপু এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (তদন্ত-২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ১ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ছান্দিয়াপুর গ্রামের সন্তান। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে অবহেলিত এ অঞ্চলের যুব উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।










