ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ বাড়ছে, আক্রান্ত ৩৭

  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬৯ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ বাড়ছে, আক্রান্ত ৩৭

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ছয়জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব ছাফরহাটি গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। ওই গরুর মাংস কাটাকাটি ও খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের পরবর্তী সময়ে জ্বর, মাথাব্যথা ও আক্রান্ত স্থানে ফোসকার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।

এরপর উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ও তারাপুর ইউনিয়নেও রোগাক্রান্ত গরু জবাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে জ্বর, মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত স্থানে চুলকানি থেকে পরবর্তীতে ক্ষত বা ফোসকাও হতে পারে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ছাড়া কোনো গবাদিপশু জবাই না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল সুন্দরগঞ্জের আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন এবং বিশেষ ক্যাম্প পরিচালনা করবে।

উল্লেখ্য, গত বছরও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। ওই সময় আক্রান্ত হয়ে রোজিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসুস্থ বা সন্দেহজনক গবাদিপশু জবাই না করা এবং পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হলে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ বাড়ছে, আক্রান্ত ৩৭

আপডেট সময় : ০৬:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ছয়জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব ছাফরহাটি গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। ওই গরুর মাংস কাটাকাটি ও খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের পরবর্তী সময়ে জ্বর, মাথাব্যথা ও আক্রান্ত স্থানে ফোসকার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।

এরপর উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ও তারাপুর ইউনিয়নেও রোগাক্রান্ত গরু জবাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে জ্বর, মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত স্থানে চুলকানি থেকে পরবর্তীতে ক্ষত বা ফোসকাও হতে পারে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ছাড়া কোনো গবাদিপশু জবাই না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল সুন্দরগঞ্জের আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন এবং বিশেষ ক্যাম্প পরিচালনা করবে।

উল্লেখ্য, গত বছরও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। ওই সময় আক্রান্ত হয়ে রোজিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসুস্থ বা সন্দেহজনক গবাদিপশু জবাই না করা এবং পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হলে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শেয়ার করুন