আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবরার ফাহাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন, পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান।
সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা তাঁর ছেলের হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলোতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় আবরারের পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এবং সেতুটির নাম আবরার ফাহাদের নামে করার অনুরোধ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন বলে তাঁর উপ-প্রেস সচিবের বরাতে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবরারের কবর পাকাকরণ এবং স্থানীয় মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
আবরার ফাহাদের বাবা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আবরারের মা রোকেয়া খাতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি চান, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্যাম্পাসে নির্যাতনের শিকার না হন।
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে তাঁর ভাইয়ের নামে একটি হল নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে আবরার ফাহাদের ঘটনা ও স্মৃতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও তোলেন তিনি। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদ নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টেও ওই রায় বহাল থাকার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। পরিবারের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসের মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎ শেষ হয়।









