ডাকসু নির্বাচনে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’
- আপডেট সময় : ০৬:১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

ডাকসু নির্বাচনে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ৩৬ দিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডাকসু নির্বাচনে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। এক বছরের মধ্যে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই এ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার উপস্থাপন করেন এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন খান। এ সময় ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম, জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্যানেলটি জানিয়েছে, তাদের কর্মপরিকল্পনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে ছয়টি বিষয়ে ইতিবাচক অঙ্গীকার এবং ছয়টি বিষয়ে স্পষ্ট বিরোধিতা।
‘হ্যাঁ’ বলবে— নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট সমাধান, নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, সুলভ চিকিৎসা ও মানসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং ক্যারিয়ার সহায়তা।
অন্যদিকে, ‘না’ বলবে— কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি, নির্যাতন-সহিংসতা, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি, বৈষম্যমূলক আচরণ, মাদক-ছিনতাই-চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও ইসলামফোবিয়া-সাইবার বুলিং।
ঘোষিত ইশতেহারে প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন আয়োজন, প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিতকরণ, ক্যানটিনে স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবহন ও ছাত্রী হলে কর্মচারী নিয়োগে বিশেষ নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান–স্টপ সার্ভিস, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ‘মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম’, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণ, গবেষণা কর্মশালা ও সফট স্কিল উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহারে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিং, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকীকরণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং বেসরকারি হাসপাতালে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অদম্য মেধাবী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বৃত্তি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের নিয়ম শিথিল, মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর, কমনরুমে নারী কর্মচারী নিয়োগ এবং মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন প্রোডাক্ট সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে প্যানেলটি।
বহিরাগত যান নিয়ন্ত্রণ, ভাসমান হকার উচ্ছেদ, হলভিত্তিক সমস্যা সমাধানে ‘গ্রিভেন্স রেসপন্স টিম’ ও ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেল’ গঠন করার প্রতিশ্রুতিও এসেছে ইশতেহারে।
সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, “৬টি হ্যাঁ, ৬টি না এবং ৩৬টি সংস্কারই আমাদের মূল ফোকাস। আমরা কোন মাসে কোন কাজ করব, তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি।”
জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, “প্রতি মাসে তিনটি করে সংস্কার বাস্তবায়ন করব। ১২ মাসে ৩৬টি সংস্কার সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।”










