সাদুল্লাপুরে চাঞ্চল্যকর “ক্লু-লেস” আসাদুল জুয়ারু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন — সন্দেহভাজন ২ আসামি গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৮১ বার পড়া হয়েছে
সাদুল্লাপুরে চাঞ্চল্যকর “ক্লু-লেস” আসাদুল জুয়ারু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন — সন্দেহভাজন ২ আসামি গ্রেফতার

সাদুল্লাপুরে চাঞ্চল্যকর “ক্লু-লেস” আসাদুল জুয়ারু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন — সন্দেহভাজন ২ আসামি গ্রেফতার
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বহু আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর “ক্লু-লেস আসাদুল জুয়ারু হত্যা মামলার” রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার ১৭ মাস পর দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পর অবশেষে দুই সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
হাবিবুর রহমান (৪৫), পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের মজিবুর রহমানের পুত্র এবং
সীমা আক্তার (২১), সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর সোনাতলা গ্রামের রেজাউল ইসলামের কন্যা।
সূত্রে জানা যায়, নিহত আসাদুল মিয়া (৪৯) ও আসামি হাবিবুর রহমানের মধ্যে সীমা আক্তারকে ঘিরে অনৈতিক সম্পর্ক ও দেহব্যবসার বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। আসাদুল ও হাবিবুর দীর্ঘদিন ধরে সীমাকে ব্যবহার করে দেহব্যবসা ও অর্থ লেনদেনের কাজে যুক্ত ছিল।
এদিকে আসাদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী বেলা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে সীমাকে একাধিকবার সতর্ক করেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাবিবুর ও সীমার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। এক পর্যায়ে হাবিবুর সীমাকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয়।
২০২৪ সালের ৭ জুন রাতে সীমা মোবাইলে আসাদুলকে দেখা করতে বলে। ওই রাত সাড়ে ১০টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার বিটিসি মোড়ে তারা দেখা করে। সেখানে আসাদুল জানতে পারে হাবিবুর ও সীমা ঢাকায় যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। বিষয়টি নিয়ে তিনজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়, যদিও স্থানীয়রা তখন বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়।
পরদিন ৮ জুন রাত ৯টার দিকে হাবিবুর জুয়ার খেলার কথা বলে আসাদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। পরে বেলা বেগমকে ফোনে আসাদুল জানায় সে ঢাকায় যাচ্ছে। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং হাবিব ও সীমাকেও পাওয়া যাচ্ছিল না।
৯ জুন বিকেল ৬টার দিকে ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর গ্রামের পূর্ব পাশে উঁচু ব্রীজের নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের ভাই মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন “ক্লু-লেস” থেকে যায়।
সম্প্রতি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই সুপদ হালদার। তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে পুনরায় তদন্ত শুরু করেন এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার রহস্য উদঘাটন করেন।
গত ১১ নভেম্বর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পলাশবাড়ী এলাকা থেকে হাবিবুর রহমান ও ইদিলপুরের কাবিলপুর সোনালতা থেকে সীমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
এস আই সুপদ হালদার জানান, আসাদুলকে হত্যার পর হাবিবুর ও সীমা ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সেখানে বসবাস করছিল। সম্প্রতি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তদন্তে জানা গেছে, নিহত আসাদুল ও হাবিবুর একে অপরের বন্ধু ছিলেন এবং তারা সীমা আক্তার কে দেহব্যবসা ছাড়াও ফিটিংস ব্যবসায় ব্যবহার করতেন।তাছাড়া জুয়ার পাটনার সিপ নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে তিনি বিরত থাকেন।
সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ তাজ উদ্দিন খন্দকার বলেন,“এসআই সুপদ হালদার অল্প সময়ের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আজ (১১ নভেম্বর) আসামিদ্বয়কে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এস আই সুপদ হালদার একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতার করে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার রহস্য উদঘাটনে সন্তোষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ। তারা পুলিশের দ্রুত ও নির্ভুল তদন্তের প্রশংসা করেছেন।
উল্লেক্ষ যে নিহত আসাদুল ইসলাম পলাশবাড়ীর উপজেলার আমবাড়ি গ্রামের মৃত্য: আবুল হোসেন এর পুত্র।









