ওসমান হাদির অবস্থা অপরিবর্তিত, চলছে বিদেশ নেওয়ার পরিকল্পনা।
- আপডেট সময় : ১২:১৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫০ বার পড়া হয়েছে

গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান বিন হাদির অবস্থা অপরিবর্তিত, উন্নতি হলে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি
ঢাকা:
দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির শারীরিক অবস্থার এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই রাজনৈতিক নেতা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শরিফ ওসমান বিন হাদি এখনো ডিপ কোমায় রয়েছেন। তবে তার শরীরে কিছু ইন্টারনাল রেসপন্স দেখা যাচ্ছে, যা চিকিৎসকদের ভাষায় সামান্য আশাব্যঞ্জক।
ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, চিকিৎসকেরা তাকে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পর্যবেক্ষণকাল শেষ হবে সোমবার রাত পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি বিবেচনায় পরবর্তী চিকিৎসা ও বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে তার শারীরিক অবস্থার ওপর।”
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, একটি গুলি তার ডান কানের পাশ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন এবং তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
একই হাসপাতালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন থাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, লন্ডনপ্রবাসী ভাইকে নিতে ঢাকায় আসা সিলেটের সোহেল আহমেদ বলেন, “হাদি ভাই একজন প্রতিবাদী মানুষ। যারা দেশের ভালো চায় না, তারাই তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এটা খুবই নৃশংস ঘটনা।”
তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মানসকন্যা। দেশের জন্য তার প্রয়োজন এখনো রয়েছে। আমরা দুজনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।”
জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শরিফ ওসমান বিন হাদি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিনই তাকে গুলি করা হয়।
হাদির সমর্থকেরা এই হামলার জন্য পতিত আওয়ামী লীগকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনাটিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি পৃথক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার অঙ্গীকার করেছে।
এ ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানকে সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলাকারী সম্পর্কে তথ্য দিতে সরকার ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










