কাকরাইলে জাপা কার্যালয়ে হামলা, পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

কাকরাইলে জাপা কার্যালয়ে হামলা, পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একদল বিক্ষোভকারী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গণ অধিকার পরিষদের (গঅপ) একটি মিছিল বিকেল চারটার দিকে বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন ঘুরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জাপার কার্যালয়ে আসে। এর কিছুক্ষণ পর একদল ব্যক্তি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল হামলার সঙ্গে গঅপ সংশ্লিষ্ট। তবে দলীয় উচ্চপর্যায়ের নেতা আবু হানিফ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ এতে যুক্ত ছিলেন না। অন্যদিকে গঅপের এক নেতা জানিয়েছেন, মিছিলের শেষ দিক থেকে কিছু নেতা-কর্মী জাতীয় পার্টি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে পারেন।
শুক্রবারও কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তখন নুরুল হক গুরুতর আহত হন। শুক্রবারের ঘটনার পর পুলিশ কার্যালয়ের আশপাশে মোতায়েন থাকেন।
৩টি দাবিতে প্রতিবাদ:
গঅপ শনিবার বিকেলে বিজয়নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে তিনটি দাবি তুলেছে—
-
জাতীয় পার্টিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করা
-
নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
-
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ
সমাবেশে জনসমাগমের কারণে বিজয়নগরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে, নেতা-কর্মীরা রাস্তায় টায়ার পোড়ান ও মিছিল বের করেন।
জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের দাবি:
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তারা কুশপুতুলও পোড়ায়। সংগঠনটি আরও পাঁচ দফা দাবি তুলেছে, যার মধ্যে আছে নুরুল হকের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করা, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করা, পুলিশ সংস্কার কমিশন পুনর্বহাল, ৫০ হাজার বিপ্লবী পুলিশ নিয়োগ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা।
জাতীয় পার্টির বক্তব্য:
এক বিবৃতিতে জাপা জানিয়েছে, মহাসচিবের নেতৃত্বে দলের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলা চালিয়ে কার্যালয়ে আগুন দেয়, যা পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে। এছাড়া চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলার চেষ্টা হলেও পুলিশ সন্ত্রাসীদের হটিয়ে দিয়েছে।










