ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

ধূমপান: স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজে নীরব ক্ষয়কারী

  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

ধূমপান: স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজে নীরব ক্ষয়কারী

ধূমপান: স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজে নীরব ক্ষয়কারী

ধূমপান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত অভ্যাস। অনেকেই মনে করেন, একটি সিগারেটের ক্ষতি তেমন কিছু হয় না। তবে গবেষণা বলছে, এক সিগারেটের ধোঁয়া কেবল ধূমপায়ীর জন্যই নয়, আশেপাশের মানুষ ও পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।

একটি সিগারেট জ্বালানোর সময় বের হওয়া ধোঁয়ায় ৭,০০০-এর বেশি রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যাদের মধ্যে অনেকটি ক্যানসার সৃষ্টি করতে সক্ষম। ধোঁয়ায় থাকা ক্ষুদ্র কণা PM2.5 দীর্ঘসময় বাতাসে ভেসে থাকে, ফুসফুসে জমা হয়ে স্বাস্থ্যহানি ঘটায়। এছাড়া আর্সেনিক, বেনজিন, ফর্মালডিহাইড, অ্যামোনিয়ার মতো রাসায়নিক মাটি ও পানিতেও মিশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

পরোক্ষ ধূমপান বা সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকও আশেপাশের মানুষকে বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী নারীর জন্য এর প্রভাব বিশেষভাবে ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা যায়।

ইনডোর ধূমপানও মারাত্মক। একটি সিগারেটের ধোঁয়া ছোট ঘরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, যা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ধূমপানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও চোখে পড়ার মতো। ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগগুলোর চিকিৎসায় পরিবার ও রাষ্ট্র উভয়ের ওপর অর্থনৈতিক চাপ পড়ে, কর্মক্ষমতা হারায় মানুষ। পরিবেশ দূষণের কারণে কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব পড়ে।

প্রতিরোধ ও করণীয়:

  • জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা

  • কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি

  • ধূমপানবিরোধী প্রচারণা

  • নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, কাউন্সেলিং ও সাপোর্ট গ্রুপ

একটি সিগারেটকে ছোটখাটো বিষয় মনে করা উচিত নয়। এটি কেবল একজন ধূমপায়ীর শরীরই নয়, পরিবেশ, আশেপাশের মানুষ ও সমাজকে ধীরে ধীরে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়। ধূমপানের ধোঁয়া প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষকে অসুস্থ করছে এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।

লেখক: সুইটি রহমান, শিক্ষার্থী, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধূমপান: স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজে নীরব ক্ষয়কারী

আপডেট সময় : ০৭:৪০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

ধূমপান: স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজে নীরব ক্ষয়কারী

ধূমপান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত অভ্যাস। অনেকেই মনে করেন, একটি সিগারেটের ক্ষতি তেমন কিছু হয় না। তবে গবেষণা বলছে, এক সিগারেটের ধোঁয়া কেবল ধূমপায়ীর জন্যই নয়, আশেপাশের মানুষ ও পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।

একটি সিগারেট জ্বালানোর সময় বের হওয়া ধোঁয়ায় ৭,০০০-এর বেশি রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যাদের মধ্যে অনেকটি ক্যানসার সৃষ্টি করতে সক্ষম। ধোঁয়ায় থাকা ক্ষুদ্র কণা PM2.5 দীর্ঘসময় বাতাসে ভেসে থাকে, ফুসফুসে জমা হয়ে স্বাস্থ্যহানি ঘটায়। এছাড়া আর্সেনিক, বেনজিন, ফর্মালডিহাইড, অ্যামোনিয়ার মতো রাসায়নিক মাটি ও পানিতেও মিশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

পরোক্ষ ধূমপান বা সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকও আশেপাশের মানুষকে বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী নারীর জন্য এর প্রভাব বিশেষভাবে ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা যায়।

ইনডোর ধূমপানও মারাত্মক। একটি সিগারেটের ধোঁয়া ছোট ঘরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, যা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ধূমপানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও চোখে পড়ার মতো। ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগগুলোর চিকিৎসায় পরিবার ও রাষ্ট্র উভয়ের ওপর অর্থনৈতিক চাপ পড়ে, কর্মক্ষমতা হারায় মানুষ। পরিবেশ দূষণের কারণে কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব পড়ে।

প্রতিরোধ ও করণীয়:

  • জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা

  • কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি

  • ধূমপানবিরোধী প্রচারণা

  • নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, কাউন্সেলিং ও সাপোর্ট গ্রুপ

একটি সিগারেটকে ছোটখাটো বিষয় মনে করা উচিত নয়। এটি কেবল একজন ধূমপায়ীর শরীরই নয়, পরিবেশ, আশেপাশের মানুষ ও সমাজকে ধীরে ধীরে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়। ধূমপানের ধোঁয়া প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষকে অসুস্থ করছে এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।

লেখক: সুইটি রহমান, শিক্ষার্থী, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন