ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

প্রবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে দেশে আসছে রেমিট্যান্সের স্রোত

  • আপডেট সময় : ১২:২৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

প্রবাসীদের ঘাম ঝরা পরিশ্রমের দেশে আসছে রেমিট্যান্সের স্রোত

প্রবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে দেশে আসছে রেমিট্যান্সের স্রোত

ঢাকা: দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স। এই অর্থের পেছনে লুকিয়ে আছে লাখো প্রবাসী শ্রমিকের ঘামঝরা পরিশ্রম আর কষ্টের গল্প। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন তারা।

জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কাজ:
বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে গেছেন, তাদের অনেকেই কাজ করেন মরুভূমির প্রচণ্ড গরমে, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে উঁচু বিল্ডিংয়ে কিংবা কারখানার ভারী যন্ত্রের তলায়। কেউ ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে দিনে সামান্য মজুরি পান। অথচ সেই টাকার বড় অংশ পাঠিয়ে দেন দেশে, যাতে সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের খরচ মেটে।

কষ্টের টাকা, স্বপ্নের হাসি:
প্রবাসীরা বলছেন, “নিজের জন্য কিছু করতে পারি না, সব টাকা দেশে পাঠাই। কারণ পরিবার আমাদের অপেক্ষায় থাকে।” অনেকে কষ্টের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না, কিন্তু মাস শেষে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ যখন পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তখনই সব কষ্ট সার্থক মনে হয়।

সংখ্যার তথ্য:
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের বড় উৎস। শুধু জুলাই মাসেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার। সরকার বলছে, প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজ করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা:
তবে প্রবাসীরা অভিযোগ করেন, দেশে টাকা পাঠানোর পরও তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। অনেকে বলেন, প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।

শেষ কথা:
প্রবাসীদের এই সংগ্রামের পেছনে রয়েছে মায়ের হাসি, সন্তানের পড়াশোনা আর পরিবারের স্বপ্ন পূরণের গল্প। তাই শুধু অর্থনৈতিক অবদান নয়, তাদের কষ্টের মর্যাদা দেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে দেশে আসছে রেমিট্যান্সের স্রোত

আপডেট সময় : ১২:২৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

প্রবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে দেশে আসছে রেমিট্যান্সের স্রোত

ঢাকা: দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স। এই অর্থের পেছনে লুকিয়ে আছে লাখো প্রবাসী শ্রমিকের ঘামঝরা পরিশ্রম আর কষ্টের গল্প। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন তারা।

জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কাজ:
বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে গেছেন, তাদের অনেকেই কাজ করেন মরুভূমির প্রচণ্ড গরমে, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে উঁচু বিল্ডিংয়ে কিংবা কারখানার ভারী যন্ত্রের তলায়। কেউ ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে দিনে সামান্য মজুরি পান। অথচ সেই টাকার বড় অংশ পাঠিয়ে দেন দেশে, যাতে সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের খরচ মেটে।

কষ্টের টাকা, স্বপ্নের হাসি:
প্রবাসীরা বলছেন, “নিজের জন্য কিছু করতে পারি না, সব টাকা দেশে পাঠাই। কারণ পরিবার আমাদের অপেক্ষায় থাকে।” অনেকে কষ্টের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না, কিন্তু মাস শেষে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ যখন পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তখনই সব কষ্ট সার্থক মনে হয়।

সংখ্যার তথ্য:
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের বড় উৎস। শুধু জুলাই মাসেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার। সরকার বলছে, প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজ করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা:
তবে প্রবাসীরা অভিযোগ করেন, দেশে টাকা পাঠানোর পরও তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। অনেকে বলেন, প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।

শেষ কথা:
প্রবাসীদের এই সংগ্রামের পেছনে রয়েছে মায়ের হাসি, সন্তানের পড়াশোনা আর পরিবারের স্বপ্ন পূরণের গল্প। তাই শুধু অর্থনৈতিক অবদান নয়, তাদের কষ্টের মর্যাদা দেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন