ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে ক্রেতাদের চরম ভোগান্তি

  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে ক্রেতাদের চরম ভোগান্তি

সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে ক্রেতাদের চরম ভোগান্তি

গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ ও মাংসের পাশাপাশি সবজির দামও আকাশচুম্বি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা এখন দৈনন্দিন খাবারের জন্যও হিমশিম খাচ্ছেন।

বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়শ, পটল, শাকের মতো মৌসুমি সবজির কেজি দামের ভরাট বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বাজারে এখন ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলানো দায়। দয়াগঞ্জ বাজারে বুধবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, বেগুন ১০০–১৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ১০০, করলা ৯০–১০০, কাঁকরোল ১৩০, শসা ৮০, পেঁয়াজ ৭৫ এবং টমেটো ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে একই সবজির দাম ছিল অনেক কম, যেমন টমেটো ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা।

দয়াগঞ্জ বাজারের ক্রেতা জেসমিন আক্তার বলেন, “এক কেজি বেগুন নিলাম ৯০ টাকায়, টমেটো ১২০, পেঁয়াজ ৭০ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের রান্নাঘর বন্ধ হয়ে যাবে।” ধূপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেনও জানান, “সকালে সবজি নিয়ে এলেও বিকেলে খালি হয়ে যায়। দাম কমানো যাচ্ছে না, পাইকারি বাজারে দাম না কমলে আমরা কমাতে পারি না।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জমিতে সবজির ক্ষতি মৌসুমি সবজির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় দীর্ঘদিন সবজি সংরক্ষণ সম্ভব নয়। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও পাইকারি বাজারে ঘাটতি ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এ ছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও দামের বাড়াবাড়িতে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল না থাকলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়। এর ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয় নিম্নআয়ের মানুষদের।

বাজারে এই অস্থিরতা নতুন নয়। তবে সরকারের নিয়মিত তদারকি, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক পদক্ষেপ না নিলে দাম আরও বাড়তে পারে। এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই অগ্নিকান্ড কেবল বাজারেই নয়, জনজীবনেও ছড়িয়ে পড়বে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে ক্রেতাদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে ক্রেতাদের চরম ভোগান্তি

গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ ও মাংসের পাশাপাশি সবজির দামও আকাশচুম্বি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা এখন দৈনন্দিন খাবারের জন্যও হিমশিম খাচ্ছেন।

বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়শ, পটল, শাকের মতো মৌসুমি সবজির কেজি দামের ভরাট বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বাজারে এখন ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলানো দায়। দয়াগঞ্জ বাজারে বুধবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, বেগুন ১০০–১৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ১০০, করলা ৯০–১০০, কাঁকরোল ১৩০, শসা ৮০, পেঁয়াজ ৭৫ এবং টমেটো ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে একই সবজির দাম ছিল অনেক কম, যেমন টমেটো ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা।

দয়াগঞ্জ বাজারের ক্রেতা জেসমিন আক্তার বলেন, “এক কেজি বেগুন নিলাম ৯০ টাকায়, টমেটো ১২০, পেঁয়াজ ৭০ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের রান্নাঘর বন্ধ হয়ে যাবে।” ধূপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেনও জানান, “সকালে সবজি নিয়ে এলেও বিকেলে খালি হয়ে যায়। দাম কমানো যাচ্ছে না, পাইকারি বাজারে দাম না কমলে আমরা কমাতে পারি না।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জমিতে সবজির ক্ষতি মৌসুমি সবজির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় দীর্ঘদিন সবজি সংরক্ষণ সম্ভব নয়। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও পাইকারি বাজারে ঘাটতি ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এ ছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও দামের বাড়াবাড়িতে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল না থাকলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়। এর ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয় নিম্নআয়ের মানুষদের।

বাজারে এই অস্থিরতা নতুন নয়। তবে সরকারের নিয়মিত তদারকি, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক পদক্ষেপ না নিলে দাম আরও বাড়তে পারে। এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই অগ্নিকান্ড কেবল বাজারেই নয়, জনজীবনেও ছড়িয়ে পড়বে।

শেয়ার করুন