ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২

  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬৯ বার পড়া হয়েছে

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২

ঢাকা প্রতিনিধি:
সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে নতুন এ ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরে পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব প্রাইড’-এ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত অপরাধের ধরন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নতুন এই ইউনিট একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাইবার কার্যক্রম তদারক করবেন।

এ ছাড়া থানাগুলোতে সাইবার অপরাধের সেবা ও তদন্তের জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী সাইবার পুলিশ ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল থাকবে। বিদ্যমান পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিতদের পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমেও জনবল পূরণ করা হবে।

সাইবার পুলিশ ইউনিটে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক, আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ, ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ম্যালওয়্যার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জরুরি সাইবার প্রতিক্রিয়া ও দুর্যোগ পুনরুদ্ধার বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞরা চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করবেন।

মন্ত্রী বলেন, নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ইউনিটে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাইবার অপরাধ তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউনিটটির অধীনে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন অপরাধ তদন্তে এই ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্ত কার্যক্রম এখন থেকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। এর ফলে সাইবার অপরাধ শনাক্ত, তদন্ত ও প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২

আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রতিনিধি:
সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে নতুন এ ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরে পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব প্রাইড’-এ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত অপরাধের ধরন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নতুন এই ইউনিট একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাইবার কার্যক্রম তদারক করবেন।

এ ছাড়া থানাগুলোতে সাইবার অপরাধের সেবা ও তদন্তের জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী সাইবার পুলিশ ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল থাকবে। বিদ্যমান পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিতদের পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমেও জনবল পূরণ করা হবে।

সাইবার পুলিশ ইউনিটে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক, আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ, ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ম্যালওয়্যার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জরুরি সাইবার প্রতিক্রিয়া ও দুর্যোগ পুনরুদ্ধার বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞরা চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করবেন।

মন্ত্রী বলেন, নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ইউনিটে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাইবার অপরাধ তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউনিটটির অধীনে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন অপরাধ তদন্তে এই ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্ত কার্যক্রম এখন থেকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। এর ফলে সাইবার অপরাধ শনাক্ত, তদন্ত ও প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন