ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫১ দল ও ১,৯৮১ প্রার্থী, সাড়ে ২৫ শতাংশ ঋণগ্রস্ত: টিআইবি

  • আপডেট সময় : ১১:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৬ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫১ দল ও ১,৯৮১ প্রার্থী, সাড়ে ২৫ শতাংশ ঋণগ্রস্ত: টিআইবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এই নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ১৩ শতাংশ। বাকি ১ হাজার ৭৩২ জন দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানায়, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সাড়ে ২৫ শতাংশের বেশি প্রার্থী ঋণগ্রস্ত। তাদের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

টিআইবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থীদের ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের মধ্যে ঋণগ্রস্তের হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এ হার ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এছাড়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রার্থীদের পেশাগত পরিচয়ে দেখা যায়, ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী ব্যবসায়ী। আইনজীবী ও শিক্ষক পেশা উল্লেখ করেছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যের হিসাবে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২৭ জন প্রার্থী শতকোটি টাকার মালিক।

টিআইবি জানায়, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর, যা বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবারও ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

আইনগত অবস্থার বিষয়ে টিআইবি জানায়, ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অতীতে মামলা ছিল এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৭৪০ জন, অর্থাৎ ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতির কাছে ইসি জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপনের প্রমাণও টিআইবির কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫১ দল ও ১,৯৮১ প্রার্থী, সাড়ে ২৫ শতাংশ ঋণগ্রস্ত: টিআইবি

আপডেট সময় : ১১:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এই নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ১৩ শতাংশ। বাকি ১ হাজার ৭৩২ জন দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানায়, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সাড়ে ২৫ শতাংশের বেশি প্রার্থী ঋণগ্রস্ত। তাদের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

টিআইবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থীদের ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের মধ্যে ঋণগ্রস্তের হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এ হার ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এছাড়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রার্থীদের পেশাগত পরিচয়ে দেখা যায়, ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী ব্যবসায়ী। আইনজীবী ও শিক্ষক পেশা উল্লেখ করেছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যের হিসাবে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২৭ জন প্রার্থী শতকোটি টাকার মালিক।

টিআইবি জানায়, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর, যা বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবারও ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

আইনগত অবস্থার বিষয়ে টিআইবি জানায়, ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অতীতে মামলা ছিল এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৭৪০ জন, অর্থাৎ ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতির কাছে ইসি জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপনের প্রমাণও টিআইবির কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন