ভাতের আঠা আর ডিমের সাদা অংশে তৈরি হয়েছিল চীনের মহাপ্রাচীর?
- আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ৪৯৭ বার পড়া হয়েছে

অনেকের মতো আমিও স্কুলের সাধারণ জ্ঞানের বই থেকে মহাপ্রাচীরের কথা জেনেছিলাম। অবশেষে ঘুরে এলাম সেই মহাপ্রাচীরের দেশ। প্রাচীরটি নিয়ে মাও সে–তুং একটি কবিতায় লিখেছিলেন, ‘একজন ব্যক্তি কখনো প্রকৃত বীর হয়ে উঠতে পারে না, যদি না সে কোনো দিন মহাপ্রাচীরের চূড়ায় গিয়ে পৌঁছায়।’ নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এমন নিদর্শন নিজ চোখে না দেখলে চীনের জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম কীভাবে জাগ্রত হবে? সে জন্যই এমন কবিতা রচনা। অবশ্য প্রকৃত বীর হওয়ার জন্য নয়, মানুষের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি, সপ্তাশ্চর্যের একটি ও চীনের দর্শনীয় কিছু স্থান ভ্রমণের জন্য জীবনকে কিছুটা সুযোগ করে দিলাম। সেসব অভিজ্ঞতারই সামান্য কিছু অংশ আজ বলব।
প্রাচীর দেখার দিন
বেইজিংয়ে প্রবেশ করলেই বোঝা যায়, একসময় এ জায়গা ঘিরে গড়ে উঠেছিল প্রাচীন এক নগরী। এখানকার সড়কগুলো বেশ প্রশস্ত। ইলেকট্রিক বাইক চালকের সংখ্যা প্রচুর। নারী, পুরুষ, ডেলিভারিম্যানদের প্রধান পছন্দ এই যান। চীনের রাস্তায় কোনো শব্দদূষণ নেই। যদিও আমাদের উবার ড্রাইভারকে দেখলাম দু–একবার হর্ন বাজাতে। আমরা তো অবাক, একি কাণ্ড! চীনেও সুযোগ পেলে কেউ কেউ নিয়ম ভেঙে ফেলতে চায়। তাই ট্রাফিক সিগন্যালের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশও রয়েছে। যদিও সবাই বেশ ভালোভাবেই নিয়ম মেনে চলে। নইলে জরিমানা। চীনে প্রকাশ্যে ধূমপানের দৃশ্য দেখে প্রথমে বেশ অবাক হয়েছিলাম। পরে জানলাম, ইনডোরে নিষিদ্ধ হলেও আউটডোরে এখানে ধূমপান করা যায়। ধূমপায়ীর সংখ্যাও প্রচুর; যেখানে–সেখানে সিগারেটের অবশিষ্ট ফেলে যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা খুব দ্রুত সেসব পরিষ্কার করে ফেললেও ব্যাপারটা বিরক্তিকর মনে হয়েছে। এমন ঝকঝকে, দূষণমুক্ত শহরে ধূমপায়ী দেখব, কল্পনাও করতে পারিনি।
ফেব্রুয়ারির শেষেও বেইজিং বেশ ঠান্ডা। গাছগুলো একদম পাতাহীন। এ কারণে পাখির বাসাগুলো নজর কাড়ছিল বারবার।
মহাপ্রাচীর দেখতে যাওয়ার দিনটিতে মনের ভেতর বেশ উত্তেজনা বোধ করলাম। এই প্রাচীর দেখার জন্যই তো এখানে আসা! সকাল–সকাল রওনা দিলাম। মুটিয়ানয়ু নামের একটা জায়গায় পৌঁছাতে গাড়িতে সময় লাগল দুই ঘণ্টা। সড়কের পাশের লেকে দেখি, বরফ জমে আছে। তবে যতটা ভয় পেয়েছিলাম, শীত ততটা নয়। রোদ উঠে গেছে। এবার কেব্ল কারে করে পাহাড়ের ওপর ওঠার পালা।
ওপরে উঠতে উঠতেই দেয়ালটা চোখে পড়ে। পাহাড় এখন ধূসর হয়ে থাকলেও বছরের অন্য সময়ে একদম সবুজ, কখনো আবার বরফেও ঢাকা থাকে। কিছু গাছে গোলাপি চেরি ফুটে আছে।
প্রাচীরটা দেখতে দেখতে জানলাম, আঠালো ভাত ও ডিমের সাদা অংশের মিশ্রণ দিয়ে ইটের পর ইট জুড়ে এটি তৈরি! শুনে তো বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেলাম। না জানি ৮ হাজার ৮৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়ালে ইট জোড়া দিতে কত ভাত ও ডিম জোগাড় করতে হয়েছিল।
সেই সময়ের খাদ্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ চীনকে কিছুটা আন্দাজ করতে পারলাম। সত্যিই মিং সম্রাটদের বিস্ময়কর নিদর্শন এই মহাপ্রাচীর!














