ওমরাহ শেষে সৌদিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫, আহত এক শিশু
- আপডেট সময় : ১১:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৬২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ওমরাহ হজ পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে সৌদি আরব-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), তাদের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩), দেড় বছরের কন্যা সুবহা আক্তার এবং গাড়িচালক জিলানী বাবর (৩০)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১), যিনি বর্তমানে জেদ্দার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতদের সবার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। মিজান ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহীদ উল্যাহর ছেলে এবং চালক জিলানী বাবর একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারীর ছেলে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মিজান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। পাঁচ দিন আগে তারা ওমরাহ সম্পন্ন করতে সৌদির বাসা থেকে রওনা হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
নিহত মিজানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা দুর্ঘটনার খবর পান। আহত শিশু ফাইজা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, “সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় রামগঞ্জসহ পুরো লক্ষ্মীপুর জেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।










