ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন: গ্রেফতার ১
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / ১০৮ বার পড়া হয়েছে

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বহুল আলোচিত দাদি ও নাতনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর চাচা শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক।
ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ হত্যার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, পূর্বের এক যৌন হয়রানির ঘটনায় অপমানিত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান। নিহতরা হলেন— ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামিলার বাবা কর্মসূত্রে ঢাকার সাভারে অবস্থান করতেন। ফলে কিশোরীটি দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গেই বাড়িতে বসবাস করত। ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
যেভাবে ঘটেছে মর্মান্তিক ঘটনা
ডিবি সূত্র জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ বাজার পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে ওই বাড়িতে যান। এ সময় দাদি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিনি জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। কিশোরী বাধা দিলে এবং প্রতিবাদ জানালে অপমানিত হয়ে সেখান থেকে চলে যান।
এর কয়েকদিন পর, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শরীফ আবার বাড়িতে যান। দাদি সুফিয়া খাতুন তাকে পূর্বের ঘটনার জন্য ধমক দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পাশের একটি কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই দাদি নিহত হন।
পরবর্তীতে জামিলা চিৎকার করলে তাকে আঘাত করে টেনে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। পথিমধ্যে একটি পুকুরপাড়ে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
লাশ উদ্ধার ও তদন্ত
শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের এবং কাছের সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ঘটনার পরপরই ডিবির একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত শরীফকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
পাবনা জেলা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান,
“গ্রেপ্তারকৃত আসামি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।”
এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো ভবানীপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।










