নির্দিষ্ট রেটে ঘুস বাণিজ্য করেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার।
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৯৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট রেটে ঘুস গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালনকালে বরিশাল সদরসহ জেলার ১০টি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দুর্নীতিকে তিনি নিয়মে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, দলিল প্রতি ২০০ টাকা, নকল উত্তোলনে ৩৫ টাকা, প্রায় ৩০০ দলিল লেখকের কাছ থেকে বার্ষিক লাইসেন্স নবায়ন বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বদলির নামে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস আদায় করা হয়। এই ঘুস আদায়ের কাজে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী হালিম সিপাহি ও মহাদেব নামের দুই কর্মচারী নিয়মিত সহযোগিতা করে থাকেন।
দুদকের অভিযান, কিন্তু ‘সটকে’ যান মোহছেন
মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগে গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালায়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি কৌশলে আত্মগোপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ওই দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। তবে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানায়, দুদকের অভিযানের সময় তিনি অফিসেই উপস্থিত ছিলেন।
বদলি ও পদোন্নতিতে লাখ লাখ টাকার লেনদেন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, মোহছেন মিয়া বরিশালে যোগদানের পর থেকেই বদলি বাণিজ্য চালু করেন। বদলির জন্য জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে—
-
দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়া অফিস সহকারী শাহিনকে ৪ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে পুনরায় বরিশাল সদর অফিসে যোগদান করানো হয়।
-
রেকর্ড কিপার বিধান চন্দ্র সুতারকে ৪ লাখ টাকায় বদলি করা হলেও এক মাস পর যোগদান করতে বাধ্য করা হয় এবং দুই মাস পর আবার বদলি করা হয়।
-
হিজলা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের নকলনবিশ দিলিপ চন্দ্রকে ১০ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
-
আগৈলঝাড়ার অফিস সহকারী ফাতেমাতুজ জোহরার পদোন্নতির জন্য ৮ লাখ টাকা ঘুসের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
পেনশন তুলতেও ঘুস!
বরিশাল সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক পিয়ন জাহাঙ্গীর হোসেন অবসরের সময় পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে ৬ লাখ টাকা ঘুসের দাবির মুখে পড়েন। পরে তার ছেলে জাহিদের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা দিয়ে সমঝোতা করতে বাধ্য হন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন,
“একটি সরকারি দপ্তরের প্রধান যদি প্রকাশ্যে ঘুস বাণিজ্যে লিপ্ত থাকেন, তাহলে তার অধীনস্থরাও দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে—এটাই স্বাভাবিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুদক যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।”
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ
দলিল করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী বলেন,
“এই ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলি ও শাস্তির আওতায় না আনলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
অভিযোগ অস্বীকার জেলা রেজিস্ট্রারের
ঘুস বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে দুদকের অভিযানের সময় আত্মগোপনের অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।










