অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল বয়কট প্রত্যাহার না করায় কঠোর সিদ্ধান্ত বিসিবির।
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০২ বার পড়া হয়েছে

ক্রীড়া ডেস্ক:
বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্য এবং তার বিপরীতে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের কঠোর অবস্থানের ফলে চরম অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। এমন পরিস্থিতিতে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ক্রিকেটাররা বয়কট প্রত্যাহার না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতেই ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেবে বিসিবি। এর আগে বোর্ড জানিয়ে দিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রিকেটাররা মাঠে না ফিরলে বিপিএল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় মিরপুরে সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়রসের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা আর মাঠে গড়ায়নি। একই কারণে দুপুরে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যকার ম্যাচটিও স্থগিত থাকে।
এদিকে দুপুরে নিজেদের দাবিতে অনড় থাকার ঘোষণা দেয় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ করবেন অথবা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করবেন—এমন প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবেন না।
তিনি বলেন,
“বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে আমরা এখনও অনড় আছি। বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিলেই আমরা খেলতে প্রস্তুত।”
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, পরিচালক নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিসিবি সভাপতির ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নিজেই অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিসিবির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার সবসময়ই ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষা করা। বোর্ড তার অধিভুক্ত সব খেলোয়াড়ের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ দলের ভারতে সফর নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিশ্বকাপে না গেলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল ইসলাম মন্তব্য করেন,
“ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে যে এত কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি সেটা ফেরত চাইছি?”
এছাড়া জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতীয় দালাল’ বলেও বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। এসব মন্তব্যকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে অভিহিত করে কোয়াব।
সব মিলিয়ে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মুখোমুখি অবস্থানে বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।










