ধাপেরহাটে তাবিজের আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ: আটক ১
- আপডেট সময় : ০৭:৫৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৯৮ বার পড়া হয়েছে

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পালানপাড়া মৌজার পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির পেছনের একটি ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ ও গুঞ্জন ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়রা বাসাটিতে গিয়ে বিভিন্ন সন্দেহজনক আলামত দেখতে পান। পরে অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাটি বিমা ব্যবস্থাপক রেজাউল করিমের মালিকানাধীন। সেখানে গত কয়েক মাস ধরে বসবাস করছিলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর গ্রামের বাসিন্দা অন্তর (২৮)। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এছাড়া কিছু ব্যক্তিকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে নিজ এলাকা থেকে তাকে চলে যেতে বলা হয়েছিল।
সরেজমিনে বাসার ভেতরে তাবিজ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, কয়েকটি পুতুল, মানুষের হাড় ও মাথার খুলির মতো দেখতে কিছু বস্তু, কিছু অশ্লীল ছবি এবং আরবি সদৃশ কিছু লেখা পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে মানুষের হাড় কি না বা কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ, ব্যবসায়িক সমস্যা, প্রেম-ভালোবাসা, মামলা-মোকদ্দমাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। এছাড়া গভীর রাতে রাসায়নিক জাতীয় কিছু পদার্থ পোড়ানোর ফলে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াত বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে—এমন কিছু আলামতও বাসা থেকে পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
অভিযুক্ত অন্তর সাংবাদিকদের কাছে বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফের পাশে মাথার খুলির মতো বস্তু রাখা ঠিক হয়নি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ওঠা কিছু কার্যক্রমের দায়ও তিনি স্বীকার করেছেন বলে উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে উদ্ধার করা আলামতসহ ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় জনতার মাধ্যমে একজনকে তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।










